আমার কাজিনের আপত্তি হচ্ছে "আল্লাহ যদি আমাদের অস্তিত্ব না দিতেন তাহলে তো আমাদের এতো পরীক্ষা দিতে হতো না।আমরা তো অস্তিত্ব চাইনি, তাহলে কেন আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করছেন!" - তাসমিউল ফাতিম।
কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলো মূলত প্রশ্ন নয়। বরং নানা কায়দায় প্রশ্নরূপে তুলে ধরা হয়। এই প্রশ্নটাও অনুরূপ।
আমরা জানি 'না চাইতেই কিছু পাওয়া'
(গিফট) এটা চরম আনন্দের। ছোট থেকে ছোট জিনিসও যদি কেউ না চাইতেই পেয়ে যায়।সে প্রচন্ড খুশি হয়।
কিন্তু এখানে এই স্বভাবচারিত নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রশ্নটা দাড় করানো হয়েছে যে, না চাইতেই আল্লাহ আমাদের জীবন কেন দিয়েছেন।
ধরে নিলাম আমরা কনফিউজড।'না চাইতেই কোন কিছু দেয়া' এটা আনন্দের নাকি বেদনার? যদি আনন্দের হয় তাহলে এই প্রশ্নটা অবান্তর। আর যদি বেদনার হয় তাহলে প্রশ্নটার কিছু যৌক্তিকতা থাকবে।
পৃথিবীতে এমন ক'জন আছে যাদেরকে না চাইতেই কিছু দিলে রাগ করে! কয় পার্সেন লোক আছে জানি না তবে কিছু নাস্তিকরা এমনটাই বলতে চায় শুধুমাত্র স্রষ্টার প্রাণ দেয়ার ক্ষেত্রেই। এ ক্ষেত্রে তাদের উত্তর 'না চাইতেই কিছু দেয়া' বেদনার। কেননা জীবনটা তাদের কাছে অর্থহীন। উদ্দেশ্যহীন।
কিন্তু অধিকাংশ মানুষের কাছে তো জীবনটা অতিব গুরুত্বপূর্ন। দামী। তাহলে তাদের কাছে তো না চাইতেই জীবন পাওয়াটা অত্যন্ত আনন্দের। নিয়ামতের।
যাইহোক নাস্তিকরা মনে করে আল্লাহ আমাদের না চাইতেও যে জীবন দিয়েছেন তা অনুচিত। অবিচার।
(জীবনটা কি এতই মূল্যহীন যে এটা কাউকে দিলে অবিচার হবে। তাহলে কারো জীবন বাঁচানো তো অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার কথা।)
নাহয়, না চাইতেই জীবন পাওয়াটা অবিচার হবে কেন? কারণটা কী?
তাদের দৃষ্টিকোন থেকে দুটি কারণ হতে পারে -
১/ হয়তো সে জীবন পেয়ে খুশি হতে পারেনি এ কারণে যে, তাকে পরিক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। ভালো-মন্দের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আর পরিক্ষায় ফেল করলে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। সুতরাং এরকম ভয়ংকর একটা পরিক্ষায় সে কিছুতেই পড়তে চাচ্ছেনা।
একটু ভেবে দেখুন, এই কারণে-ই যদি জীবন তার জন্য অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাহলে খুবই স্বাভাবিক যে, সেই লোকটি জীবনের চেয়ে পরকালকে বেশি প্রাধান্য দিবে। সে আল্লাহর পরিক্ষার চিন্তায় সবসময় বিভোর হয়ে থাকবে। কারণ সে পরিক্ষার ভয়ে দুনিয়াতেই আসতে চাচ্ছিলো না। অতএব একবার যখন এসেই পড়েছে তখন তো তার পরিক্ষার উপর অন্যকিছুকে প্রাধান্য না দেয়ার-ই কথা। তাই না!
কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আমরা কী দেখি, যারাই এ আপত্তি করে তারা মূলত নাস্তিক। ইসলাম মানা তো দূরের কথা স্রষ্টাকেই বিশ্বাস করে না। তাহলে তাদের এই আপত্তির যৌক্তিকতা কোথায়? তারা মূলত এই ধরনের আপত্তি করে বুঝাতে চায় যে, স্রষ্টা বলতে কিছু নেই। আর যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
বিষয়টা এমন যে, কেউ বললো আল্লাহ না চাইতেই আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং পরিক্ষার সম্মুখীন করেছেন। অতএব আমাদের যেহেতু ইচ্ছা নেয়া হইনি সেহেতু স্রষ্টা বলতে কিছু নেই।
বিষয়টা কতটা হাস্যকর!
স্রষ্টার ক্ষমতা আছে বিধায় তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। এখানে সৃষ্টির ইচ্ছা কী প্রভাব রাখতে পারে! সৃষ্টির ইচ্ছা অনিচ্ছার কারণে কি স্রষ্টার কাজে বিন্দুমাত্র ব্যঘাত ঘটার সম্ভাবনা আছে!?
২/ আর নয়তো তারা নিজেদের জীবনকেই কষ্টের, বেদনার মনে করে। অর্থাৎ জীবন তাদের কাছে এক বেদনা দায়ক অধ্যায়। আল্লাহ মানুষকে যেই জীবন দিয়েছেন তার কোন মূল্যই নেই তাদের কাছে। তাই না চাইতেই এই জীবন পেয়ে তারা অখুশি।
অথচ আমরা দেখি নাস্তিকরা জীবনটাকে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করায় ব্যস্ত। 'খাও দাও ফুর্তি করো দুনিয়াটা মস্ত বড়। আগামীকাল বাঁচবে কিনা বলতে পার।' এই 'ফুর্তিবাজ ডায়লগ' গুলো তো তাদের-ই আমদানি করা। তারপরও কি এই জীবন পেয়ে তারা অখুশি!? এটা তো নিরেট অকৃতজ্ঞতা।
দরুন, একজন শিল্পপতি আপনার ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে না চাইতেই আপনাকে একটি চাকরি দিল। যেখানে ভালো একটি চাকরি পেতে ডজন ডজন জুতা ক্ষয় করতে হয়। গুশ দিতে হয়। সেখানে আপনি না চাইতেই সেটা পেয়ে গেলেন। তার কৃতজ্ঞতা আদাই না করে উল্টো আপনি গোঁ ধরে বসে আছেন যে,'না চাইতেই কেন আমাকে সে চাকরি দিল সুতরাং আমি তার ডিউটি করবো না।' অথচ আপনি চাকরির সমস্ত সুবিধাই ভোগ করছেন। মাসে মাসে মাইনে নিচ্ছেন, অফিস থেকে দেয়া কোয়াটারে থাকছেন গাড়ি ব্যবহার করছেন ইত্যাদি। শুধুমাত্র ডিউটির বেলাই এই অযুহাত দিচ্ছেন যে, না চাইতেই কেন আমাকে চাকরি দেয়া হলো।
এখন আপনি আপনার অবস্থানটা বিবেচনা করুন। অফিসের মালিকের আপনার কী করা উচিত? আর জীবনদাতা আল্লাহ আপনার সাথে কী করছেন?
বাস্তব জীবনেও তারা এমন-ই করছে আল্লাহর দেয়া সমস্ত সুবিধাই ভোগ করছে, কেবল আল্লাহর ডিউটির বেলায় বলছে। কেন আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন? আমরা কি সৃষ্টি করতে বলেছি?
যেহেতু চাকরি পেয়ে ডিউটি পালন না করলে প্রত্যেকেটা কোম্পানির-ই বলা উচিৎ- 'ভালো না লাগলে আপনি চাকরি ছেড়ে দেন।' কারণ বসিয়ে বসিয়ে কেউ আপনাকে খাওয়াবে না। (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া)
সেহেতু এর ধারাবাহিকতায় আমার তাদের প্রতি একটা ছোট্ট পরামর্শ- আপনারা মরে কেন যাচ্ছেন না। মরে গেলেই তো সব সমস্যা মিটে যায়। না চাইতেই দেয়া এই জীবনের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় না।
তখন নিশ্চয়ই জান বাঁচাতে সে আবার পল্টি খেয়ে এ কথা বলবে না যে, না না, আত্মহত্যা তো মহা পাপ। জাহান্নামে যেতে হবে।
তাহলে তাকে বলা উচিৎ, পাপ-পূন্যের বিষয়গুলো যদি মেনেই থাক তাহলে আল্লাহর ডিউটিগুলো ঠিকঠাক পালন করো। জাহান্নামে যেতে হবে না।

0 মন্তব্যসমূহ