['নারীসহ আটক' কথাটা ইয়াবাসহ আটক, হিরোইনসহ আটক, আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক, গাঁজাসহ আটক বিষয়গুলার মতো হয়ে গেল না!!...]
খবরটা নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা হবে বলে অনুমান করছি। ফেসবুকগুন্ডারা কী কী লিখবেন তা অনুমেয়। কিন্তু এই ঘটনায় আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করবো তথাকথিত লিবারাল, প্রগতিশীল, নারীবাদীদের প্রতিক্রিয়া। এবিষয়ে চুপ করে থাকাটাকেও একটা সিগনিফিকেন্ট প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখতে হবে।
নিউজের হেডলাইনটা একটু লক্ষ্য করুন! 'নারীসহ আটক' কথাটা ইয়াবাসহ আটক, হিরোইনসহ আটক, আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক, গাঁজাসহ আটক বিষয়গুলার সাথে কেমন যাচ্ছে!? নিঃসন্দেহে, খুব যাচ্ছে।
নারী জিনিসটা যে কলংকজনক, ভয়ংকর, নিম্নস্তরের একটা ব্যাপার সেই রিপ্রেজেন্টেশনটাই তুলে ধরছে কিনা সেকুলার, নারীবাদী, লিবারালদের পরিচালিত মিডিয়া!?
ভিডিওতে মামুনুল হক দাবি করছেন সাথে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। জিজ্ঞাসাবাদকারীদের পাল্টা প্রশ্ন- 'আপনি স্ত্রী নিয়া রিসোর্টে আসবেন কেন? থাকবেন বাড়িতে। আর এটা তো আপনার স্ত্রী মনে হয় না। প্রমাণ দেখান!'
ওই নারী মামুনুল হকের স্ত্রীই কিনা তা আমরা জানিনা। বিশেষ প্রয়োজনে সরকারী সংস্থা ছাড়া আর কারও জানতে চাওয়ার অধিকারও নাই। কিন্তু দেখেন, আপনার সাথে শুধুমাত্র কোন নারী থাকার অপরাধেই আপনাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অধিকার রাখে একদল গুন্ডা তথা স্থানীয় যুবলীগ। সেটা আপনার বোন হোক, মা হেক, ভাবি হোক, বান্ধবী হোক। এই অধিকারের স্বীকৃতি খোদ সাংবাদিক, পুলিশ নারীবাদী ও গণমাধ্যম দিচ্ছে।
কিছু টের পান? বোধকরি, গোবর ভর্তি মাথায় কিছুই টের পাচ্ছেন না।
তো সাথে থাকা নারী যদি আপনার স্ত্রীও হয় আপনাকে তার প্রমাণ দেখাতে হবে গুন্ডাদের কাছে। হাতে প্রমাণ না থাকলে তারা আপনাকে যেকোনো ভাবে হেনস্তা করার অধিকার রাখেন, ভিডিও করতে পারেন।
স্ত্রী হইলে কাবিননামা বলে একটা কাগজ তাও আছে, কিন্তু বোন হইলে, মা হইলে, ভাবি হইলে কিভাবে প্রমাণ দেখাবেন? আইডি কার্ড? সাথে নিয়া ঘুরেন? কেন ঘুরেননা? বাড়ি থেকে নিয়া আইসা প্রমাণ দেখান, কিংবা আসতে বলেন আপনার বাপেরে। আর বান্ধবী হইলে তো গুন্ডামীর মওকাই পাওয়া গেল।
দেখছেন, নারী ক্ষমতায়নের এই দেশে নারী জিনিসটা আপনার জন্য কতটা ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক, স্থানীয় জনগন ও পুলিশের সহযোগিতায়!
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, দেশ রূপান্তর।
সম্পাদনা: নাস্তিকতার মূলোৎপাটন।

0 মন্তব্যসমূহ