বিশ্বাস নিয়ে অনেক বিতর্ক। চলুন আজ এ নিয়েই পর্যালোচনা করা যাক।
আমাদের সমাজের কিছু মানুষ 'বিশ্বাস' শব্দটা ঠিক নিতে পারে না। তারা বিশ্বাসীদের রীতিমতো উপহাসের চোখে দেখে। অথচ তারা জানে না যে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। না হয় বিশ্বাস সম্মন্ধে এমনসব নেতিবাচক মনোভাব পোষণের চিন্তাও মাথায় আনতো না। বিশ্বাসের বেশ কিছু সংজ্ঞা রয়েছে। বিশ্বাস যেমন - অন্ধবিশ্বাস হতে পারে। আবার তেমন সমৃদ্ধশালী তথ্য নির্ভরও হতে পারে। এ'কথাও যদি কারো বিশ্বাস না হয় তাহলে উইকিপিডিয়ার মতো বড় বড় অরগানাইজেশান থেকে জেনে নিতে পারেন।
অতএব ঢালাওভাবে বিশ্বাস নিয়ে যারা নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন তারা আসলে-ই জ্ঞান গরীমায় অনেক পিছিয়ে আছেন। তবে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই আমি এখানে এমন কিছু উদাহরণ দিব যা তাদেরও সহজেই বোধগম্য হবে।
অন্ধবিশ্বাস বলা হয় সম্পূর্ণ আউট অফ রেশনালিটী (অযৌক্তিক), তথ্যহীন, আরগুমেন্ট নেই এমন বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসকে। কিন্তু বিন্দুমাত্র তথ্য আছে, আরগুমেন্ট আছে রেশনালিটীর দাবি রাখে এমন বিষয়কে অন্ধবিশ্বাস বলা মূর্খতার নামান্তর। কেননা সেই বিশ্বাসটা তখন অন্ধবিশ্বাসের ক্যাটাগরি হতে বেরিয়ে যায়। অতঃপর উক্ত বিষয়টির উপর যে কেউ বিশ্বাস স্থাপন করুক সে আর অন্ধবিশ্বাসীর ক্যাটাগরিতে থাকবে না। চাই সে জেনে বিশ্বাস করুক কিংবা না জেনে।
যেমন-একজন রিক্সাওলা ভ্যানওয়ালা
মূর্খ ব্যাক্তিকে যদি আমি বলি 'আপনি কি বিশ্বাস করেন পৃথিবী গোল।' কিংবা বিশ্বাস করেন পৃথিবী ঘুরছে। অথবা থিওরি অফ রিলেটিভিটি বিগব্যাং থিওরীতে বিশ্বাস করেন। তখন বেচারা রিক্সাওলা কিংবা ভ্যানওয়ালা কী উত্তর দিবে? সে তো কেবল জানে এগুলো বিজ্ঞানের বিষয়। এছাড়া কিছু বুঝেও না। তাহলে না জেনে বুঝে তার কি বিজ্ঞানের উপর বিশ্বাস করা উচিত হবে? সে কি বিশ্বাস করবে যে পৃথিবী গোল ও প্রতিনিয়ত ঘুরছে! নাকি সে বুঝেনা বিধায় বলবে 'এগুলোতে আমি বিশ্বাস করি না। এগুলো মিথ্যা।'
আমরা সকলেই জানি প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানে সবার-ই বিশ্বাস করা আবশ্যক। তাহলে তাদের বিশ্বাসকে আমরা কীভাবে জাস্টিফাই করবো। তাদের তো না জেনে বুঝে বিশ্বাস করতে হচ্ছে। নাকি তাদের বিশ্বাসটা অন্ধবিশ্বাসের ক্যাটাগরিতে পরবে?
এই উদাহরণের মাধ্যমে আমরা সুস্পষ্ট ভাবেই বুঝতে পারছি যে, না জেনে বুঝে বিশ্বাস করলেই সেটা অন্ধবিশ্বাস হয়ে যায় না। বরং দেখতে হবে উক্ত বিশ্বাসটির উপর তথ্য, আরগুমেন্ট রেশনালিটির প্রভাব আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে তার বিশ্বাসীকে অন্ধবিশ্বাসী বলাটা চরম মূর্খতা অার বোকামি বৈ কিছু নয়।
মানুষের রেশনালিটি প্রচন্ডভাবে দাবি করে স্রষ্টাহীন কিছু হওয়া অসম্ভব। খাট তৈরিতে কাঠমিস্ত্রী আর ঘর নির্মাণে রাজমিস্ত্রীর হস্তক্ষেপ আবশ্যক। এটা বুঝতে শিক্ষারও প্রয়োজন হয় না। জন্ম থেকেই মানুষ এই সেন্স নিয়ে বড় হয়। কিন্তু কারো হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছু তৈরি হওয়ার বিষয়টা আমাদের বোধগম্য নয়। যৌক্তিক নয়।
একই তো বাস্তব বিচার-বুদ্ধির দাবি স্রষ্টার অস্তিত্ব আবশ্যক। তারউপর স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণে রয়েছে কসমোলজিক্যাল, অন্টোলজিক্যাল, ট্যালিওলোজিক্যাল আরগুমেন্ট সহ আরও বহু আরগুমেন্ট। এছাড়াও রয়েছে এমন এমন প্রমাণ যা সুস্পষ্টভাবে স্রষ্টার প্রতি ঈঙ্গিত করে।এবং probability of random universe. সহ আরও শতশত বৈজ্ঞানিক রিসার্চ আছে যা স্রষ্টার অস্তিত্ব মেনে নিতে বাধ্য করে। (এগুলো নিয়ে-ই তো আমাদের লেখালেখি, জানতে হলে আমাদের লেখা পড়তে পারেন।)
এত রিসার্চ যুক্তি প্রমাণ আরগুমেন্ট থাকা সত্বেও কীভাবে স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস– অন্ধবিশ্বাস হতে পারে। আমরা তো উইকিপিডিয়া থেকে অন্ধবিশ্বাসের একটু ভিন্ন সংজ্ঞাই দেখেছিলাম। আর না বুঝেও যদি মানুষ স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস করে তাহলেও সেটা অন্ধবিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। যেমন রিক্সাওলার বিজ্ঞানে বিশ্বাস করা অন্ধবিশ্বাস নয়। আপেক্ষিক ভাবে যদিও তাকে বলা যাবে তুমি না বুঝে বিশ্বাস করছো তুমি অন্ধবিশ্বাসী, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সে যেই কন্সেফটে বিশ্বাস করছে সেটা অন্ধবিশ্বাস। কেননা তা যুক্তি প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত।
বরংচো 'স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই' বলে যারা দাবি করে তাদেরকে অন্ধবিশ্বাসী বলা যাবে। কারণ আজ পর্যন্ত এই দাবির 'স্রষ্টা নেই' পক্ষে তারা কোন প্রমাণ পেশ করতে পারেনি।এমনকি চেষ্টা করারও সুযোগ পাচ্ছে না। একেই তো এটা একটি অযৌক্তিক কনসেপ্ট মানুষের বোধগম্যের বাহিরে যে 'স্রষ্টাহীন সৃষ্টি কীভাবে সম্ভব?' তারউপর এর পক্ষে কোন রকম যুক্তি প্রমাণ নেই। তাহলে এই কন্সেপ্টে যারা বিশ্বাসী (নাস্তিক) তাদেরকে কি অন্ধবিশ্বাসী বলাটা অযৌক্তিক হবে?
অনেকেই বলতে পারেন নাস্তিকরা তো কোন কিছু বিশ্বাস করে না তাহলে তারা অন্ধবিশ্বাসী কীভাবে হবে?
তাদের উদ্দেশ্যে বলছি...
আসলে তারা দাবি করে কোন কিছুতে বিশ্বাস করে না। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তারাও বিশ্বাসী।
দেখুন, কোনকিছু আছে এটা দাবি করা যেমন একটি বিশ্বাস ঠিক তেমন কোন কিছু নেই এটা দাবি করাও তো একটা বিশ্বাস। যেমন- রাশেদ ঢাকায় আছে কি নেই জিজ্ঞেস করার পর আমি যদি বলি 'আছে।' তাহলে এর পক্ষে প্রমাণ দেওয়া আমার আবশ্যক হচ্ছে। ঠিক তেমন আপনি যদি বলেন 'ঢাকায় নেই' তাহলে সেটাও তো আপনার বিশ্বাস। আপনি 'কেন থাকতে পারে না' তার পক্ষে প্রমাণ দিতে বাধ্য। শুধুমাত্র যে বলবে 'আছে কি নেই' আমি জানি না। সে এ ব্যাপারে কোনো বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত নয়। তার প্রমাণ দেওয়া লাগবে না।
★অনুরূপ যারা বলে 'স্রষ্টা আছে' তারা আস্তিক।
★যারা বলে 'স্রষ্টা নেই' তারা নাস্তিক।
★আর যারা বলে 'স্রষ্টা আছে কি নেই'
আমারা জানি না তারা সংশয়বাদী এগনোস্টিক।
সুতরাং এক্ষেত্রে আস্তিক নাস্তিক উভয়ে বিশ্বাসের আওতাভুক্ত।
~Robiul Islam, author at নাস্তিকতার মূলোৎপাটন।

0 মন্তব্যসমূহ