প্রশ্নঃ উম্মুল মু'মিনীন হযরত মারিয়া কিবতিয়া সম্পর্কে খৃস্টান মিশনারী ও নাস্তিক-মুক্তমনাদের অপপ্রচারের জবাব চাই।
-মাহমুদ ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম।
-রাইসা আহমেদ,রাজশাহী।
_________________________________________
উত্তর:
নবী মুহাম্মাদ আরাবি সা.। যার 'হুসনুল আখলাক' বা উত্তর চরিত্র নিয়ে হাজার পৃষ্ঠা লেখা যাবে। তবুও শেষ হবে না, তার চরিত্রের বর্ণনা। স্বয়ং আল্লাহ যার চরিত্র সম্পর্কে বলেছেন:
وانك لعلى خلق عظيم ( القلم ، الاية ٤)
( হে নাবী) নিশ্চয়ই আপনি মহা চরিত্রের অধিকারী।
সূরা কলাম, আয়াত নং ৪
এবং হাদিসেও বলা হচ্ছে:
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: "بعثت لاتمم حسن الاخلاق"
রাসূল সা. বলেছেন, আমাকে পাঠানো হয়েছে উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দিতে৷
মুওয়াত্তা মালেক, ১৬৩৩
মুসনাদে আহমাদ, ৪৯৫২
হাদিসের মান, ছহীহ।
মক্কার কাফের মুশরিকরা মুহাম্মদ আরাবি সা. কে অসম্মানিত করার জন্য নানান অপবাদ দিয়েছে। কখনো বলেছে পাগল কখনোবা জাদুগর। আবার কখনো বলেছে জীন ভূত ধরেছে। চরিত্র নিয়ে কখনো প্রশ্ন তুলেনি। কারণ তারা জানতো, মুহাম্মদ আরাবি সা. এর চরিত্র নিয়ে সমালোচনা করা আর সূর্যের দিকে তাকিয়ে ভেটকি মারা সমান।
কিন্তু হাস্যকর ব্যপার হলো, রাসূলের চরম শত্রুরাও যেখানে তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি। সেখানে কিছু খৃস্টান মিশনারী আর নাস্তিক-মুক্তমনাদের অবতারণা।
একটা সাধারণ যুক্তি, রাসূল সা. এর চরিত্রে যদি সরিষা পরিমাণ আপত্তি থাকতো তাহলে তো সবার আগে তার সেই চরম শত্রুরা সেটাকে হাইলাইট করতো।
যাহোক, খৃস্টান মিশনারী ও নাস্তিক - মুক্তমনারা যেহেতু বাঘের ল্যাজে পা দিয়েছে। তাই থাবা তো খেতেই হবে।
চলুন আগে মিশনারীদের নিয়ে কথা বলি। এরপর নাস্তিক- মুক্তমনা।
খৃস্টান মিশনারীদের জবাব:
________________________
মুহাম্মদ একজন নবী। নবী হয়ে তিনি কিভাবে দাসী গ্রহণ করলেন!? আবার সেই দাসী থেকে কিভাবে সন্তান নিলেন!!?
দাসী গ্রহণ করা ও তার থেকে সন্তান নেয়া যাবে না। কোন ধর্মে এটা নিষেধ আছে?
ইসলামপূর্ব একটা ধর্মের রেফারেন্স কোট করতে পারবেন? যেখানে বলা আছে, দাসী গ্রহণ হারাম।
চলুন কিছু বড় বড় ধর্মীয় গ্রন্থের বক্তব্য জেনেনিই।
হিন্দু ধর্মে দাসী প্রথাকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। দাসী প্রথাকে অবৈধ বলা হয় নি। [১]
ইহুদি ধর্মও দাসী প্রথাকে বৈধতা দিয়েছে।
মিদরাসে বলা হচ্ছে,
"সোলাইমান আ. এর ৭০০ জন স্ত্রী এবং ৩০০ জন দাসী ছিলো।"[২]
এমনকি খৃস্টান মিশনারীদের নিজধর্মে অসংখ্য জায়গায় দাসী গ্রহণের কথা বলা হয়েছে৷
কিছু রেফারেন্স তুলে ধরা হলো৷
খৃস্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে শত্রুদের কুমারী নারীদের দাসী বানাতে বলা হয়েছে৷
"সমস্ত মিদিয়নীয় পুরুষদের হত্যা করো। সমস্ত মিদিয়নীয় স্ত্রীদের হত্যা করো যাদের কোন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু যারা কোন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেনি তাদেরকে দাসী হিসেবে বাঁচিয়ে রাখো৷" (৩)
"বাইবেল অনুসারে একজন পিতা চাইলে তার কন্যাকে দাসী হিসেবে বিক্রি করে দিতে পারে। আর একবার দাসী হিসেবে বিক্রি হলে, সে আর কোনভাবে মুক্তি পাবে না" (৪)
"ইব্রাহিম আ.কে সারীর ভাই মনে করে ফরৌণ ইব্রাহিম আ. এর প্রতি সদ্ব্যাবহার করলেন। ফৌরণ ইব্রাহিম আ.কে মেষ গবাদিপশু এবং বোঝা বইবার জন্য গাধা উপহার দিলেন। সেই সঙ্গে দাসদাসী এবং উঁটও পেলেন।" (৫)
"ইসমাইলের বংশ বৃত্তান্ত এই, ইব্রাহিম ও হাজেরার পুত্র ছিলেন ইসমাইল। অথচ হাজেরা ছিলেন সারার মিশরীয় দাসী।" (৬)
এইযে উপহার হিসাবে দাসী গ্রহণ করা। এবং তার থেকে সন্তান নেয়া। স্বয়ং ইব্রাহিম আ. এটা করেছেন৷
অপর দিকে বাইবেলে ইব্রাহিম আ. কে "ঈশ্বরের বন্ধু বলা হয়েছে"।(৭)
আরো অনেক রেফারেন্স কোট করা যবে। কিন্তু যা উপস্থাপন করেছি এতটুকুই যথেষ্ট।
এখন খৃস্টান মিশনারীদের কাছে প্রশ্ন, যে খানে আপনার ধর্ম দাসী প্রথাকে বৈধতা দেয়। সেখানে আপনি কিভাবে ইসলামের সমালোচনা করেন?
যেখানে ইব্রাহিম আ. দাসী গ্রহণ করে তার থেকে সন্তান নিয়েছেন। এবং খৃস্টধর্ম তাকে আল্লাহর বন্ধু বলেছে। সেখানে নবী মুহাম্মাদ এই জায়েজ কাজটা করাতে তার চুল পরিমাণ মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে কেনো??
* * * * * *
নাস্তিক-মুক্তমনাদের জবাব।
________________________
নাস্তিক - মুক্তমনাদেরকে আর কী বলবো! কিছু বলার আগেই তো আপনাদের উত্তর পেয়ে যাওয়ার কথা।
কারণ নাস্তিক্য ধর্মে সেক্স করার জন্য শর্ত হলো শুধু মাত্র 'সম্মতি'।
অর্থাৎ সম্মতি থাকলেই সেক্স করা বৈধ। আরো নোংরা ব্যপার কি জানেন, সম্মতি থাকলে আপন মেয়ে, বোন এমনিকি মায়ের সাথেও সেক্স করা যাবে।
শুধু কি এখানেই ক্ষান্ত, তারা বলে যদি পশু সম্মতি দিতে পারতো তাহলে তার সাথেও সেক্স করাতে কোন সমস্যা নেই।( ৮)
এখন যদিএভাবে বলি 'মারিয়া কিবতিয়া' একজন দাসী ছিলেন। যার সব কিছুই চলতো তার মনিবের ইচ্ছায়। আর তার মনিব যখন মুহাম্মাদ সা.কে উপহার সরূপ তাকে পাঠাতে চাইলেন৷ তখন মারিয়া কিবতিয়া রা. নিজেই এসে ছিলেন মুহাম্মদ সা. এর কাছে৷ এবং এসে মুহাম্মাদ সা.কে জীবন সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
ব্যাস, এতটুকুই উগ্র নাস্তিকদের জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু না। আমরা শুধু এতটুকু বলবো। কারণ নাস্তিকদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা সুশীল। যারা উগ্রতাকে মোটেও পছন্দ করেননা। তাদের জন্য আমাদের অন্যভাবে বলতে হচ্ছে।
দেখুন, ইসলামে নারী পুরষের বিশেষ সম্পর্কটা অর্জিত হয় শুধু মাত্র বিবাহের মাধ্যমে। আর বিবাহটা হচ্ছে, কমপক্ষে দু'জনকে সাক্ষী রেখে নারী-পুরুষের ইজাব কবুল ( সম্মতি এবং গ্রহণ)।
এক কথায় বললে, 'সোশ্যাল এগ্রিমেন্ট'।(৯)
একজন দাসীর ক্ষেত্রেও ঠিক সে কাজটাই হয়৷
যেমন, মারিয়া কিবতিয়া রা. নিজ ইচ্ছায় এসেছেন। এবং বিশেষ একধরনের সোশ্যাল এগ্রিমেন্টও হয়েছে।
তবে হ্যাঁ, সুশীল নাস্তিকরা হয়ত বলবেন, নবী মুহাম্মাদ সা. তো তাকে মুক্ত করে বিবাহ করতে পারতেন! হ্যাঁ ভাই, পারতেন। তিনি অন্য ক্ষেত্রে এমনটা করেও ছিলেন।
যেমন:
★সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই।
★রায়হান বিনতে জায়েদ।(১০)
এখানেও করেছেন। তাকে সম্পূর্ণ স্ত্রীর অধিকার দিয়েছেন। কারণ, মারিয়া কিবতিয়া রা. এর সাথে দাসী হিসেবে তার আপন বোন শিরিনও এসে ছিলো। রাসূল সা. এর যদি দাসী হিসেবে রেখে দেয়ার ইচ্ছে থাকতো। তাহলে দু'বনকে একসাথে রাখতে পারতেন৷ কিন্তু স্ত্রী হিসেবে রেখেছিলেন দেখে, তার বোনকে রাসূল সা. হাসসান ইবনে সাবিতের হাতে তুলে দিয়ে ছিলেন। (১১)
(লেখক, আব্দুর রাজ্জাক)
.................................................................
তথ্যসূত্রঃ
[১] ভগবতগীতা ৪:৭২
[২]Holy Bible -1 kings: Chapter 11,Verse:3
[৩] Holy Bible -Book of Numbers: Chapter :31, Verse:17-18.
[৪] Holy Bible - Book of Exodus: Chapter 21, Verse 7
[5] বাইবেল, BBS( বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি) আদি পুস্তক ১২:১৬
[৬] যাকোবের পত্র ২:২৩
[৭] বাইবেল যিশাইদ ৪১:৮
[৮] নাস্তিকতার মূলোৎপাটন : ৫১ নং পোস্ট।
[৯] শরহে বিকায়া ১। কিতাবুন নিকাহ।
[১০] প্রিয়তমা, সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর। পৃষ্ঠা ৩৩৩

0 মন্তব্যসমূহ