উত্তরঃ হ্যা, অনেক নাস্তিকই এটা দাবি করে, নাস্তিকদের সুবিধার্থে তাদের প্রতি লক্ষ্য করেই আপত্তির জবাব দিব।
পৃথিবী স্থির এটা প্রমাণ করতে গিয়ে তারা কোরআনের সুরা গাফিরের ৬৪ নং আয়াত (আল্লাহ তোমাদের জন্য পৃথিবীকে স্থির করেছেন।) সহ আরো বেশ কিছু আয়াত উল্লেখ করে যেগুলোর মর্মার্থ প্রায় এক।
আমরা জানি কোন বস্তু এক পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে গতিশীল হলেও অন্য পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে স্থির হতে পারে। যেমন ধরুন আপনি একটি চলন্ত বিমানে আছেন, এখন লক্ষ্য করুন যে বিমানটি কিন্তু আপনার জন্য স্থির, অথচ তা পৃথিবীর জন্য চলমান।
আপনার জন্য যদি বিমানটি স্থির না হতো, নড়াচড়া করতো,কাপাকাপি করতো, তাহলে বিমানে বসে থাকা আপনার জন্য অসম্ভব হতো।
ঠিক এমনই পৃথিবী আমাদের জন্য স্থির কিন্তু তা মহাবিশ্বের কাছে চলমান। যদি পৃথিবী আমাদের জন্য স্থির না হতো তাহলে পৃথিবীতে বসবাস করা আমাদের জন্য অসম্ভব হতো।
সাড়ে ১৪শত বছর পূর্বে এটা বুঝাবার জন্যই আল্লাহ বলেছেনঃ আমি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে স্থির করেছি।
এ সমস্তকিছু ভুলে তর্কের খাতিরে যদিও তাদের কথা মেনে নেই, তাহলেও প্রশ্ন আসে যে সকলের কাছেই তো এটা দৃশ্যমান যে পৃথিবী স্থির। তাহলে আল্লাহ এটা বলে (আমি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে স্থির করেছি) কি নিয়ামত জাহের করতে চাইলেন!!
এর মানে হচ্ছে পৃথিবী মূলত স্থির নয়, পাহাড়-পর্বত,বায়ুমন্ডল,অভিকর্ষ শক্তির বলে আমি তোমাদের বসবাসের জন্য পৃথিবীকে স্থির করেছি। বিছানা, কার্পেট শরূপ করে দিয়েছি। নচেৎ তোমরা ঢলে পড়তে, ছিটকে যেতে। এই প্রত্যেকটি কথাই আল্লাহ বিভিন্ন আয়াতে বুঝাতে চেয়েছেন।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আল্লাহ নিজেই সুরা আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াতে পৃথিবীকে ঘুর্ণেয়মান বলেছেনঃ★তিনি রাত ও দিন এবং চন্দ্র, সূর্য সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটিই নিজ অক্ষে বিচরণ করছে★ এখানে রূপক ভাবে রাত ও দিনের সময় উল্লেখ করে পৃথিবীকে বুঝানো হয়েছে। কেননা রাত-দিন পৃথিবীতেই প্রকাশ পেয়ে থাকে, পৃথিবী ছাড়া এর কোন অস্তিত্ব নেই।
যেমন আমরা রূপকভাবে বলে থাকিঃ দুই গ্লাস খেয়েছি। এর মানে এটা নয় যে গ্লাস চাবিয়ে খেয়ে ফেলেছি।বরং গ্লাসের মধ্যে যা ছিল তা খেয়েছি। সেরকমই রাত-দিন বলে, তা যার সাথে সম্পৃক্ত তা বুঝানো হয়েছে।
এ ছাড়াও যদি আমরা মেনে নেই যে শুধু চন্দ্র- সূর্য ঘুরছে, তাহলে ও আয়াতে সেটা সম্ভব নয়। কেননা আরবি ব্যাকারণে দ্বিবচন রয়েছে, যা অন্য কোন ভাষায় নেই। অর্থাৎ আরবিতে দুজন হলেও বহুবচন ব্যবহার করা হয় না।
সুতরাং এখানে যদি শুধু চন্দ্র-সূর্যকে ধরা হয় তাহলে(يسبحون) বহুবচন শব্দ হতো না। বরং(يسبحان)দ্বিবচন শব্দ হতো। অতএব চন্দ্র-সূর্যের সাথে পৃথিবীকেও মেনে নেওয়া আবশ্যক হচ্ছে।
0 মন্তব্যসমূহ