উত্তরঃ
১/এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন।
[সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২৭]
২/আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং (যা ইচ্ছা) মনোনীত করেন।
[সূরা কাসাস, আয়াত: ৬৮]
এই ধরণের কিছু আয়াত দিয়ে তারা বুঝাতে চায় যে, পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে তা আল্লাহর ইচ্ছায় হচ্ছে। যেহেতু সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায়, আল্লাহর হুকুমেই হচ্ছে। অর্থাৎ আমি যে অন্যায় করছি, যিনা ব্যবিচার খুন করছি, তা তো আল্লাহর আদেশেই করছি। তাহলে কেন তিনি এর কারণে আমাদেরকে শাস্তি দিবেন?
প্রথমেই আমরা জেনে নিব যে, আমরা কি সমস্ত অপরাধ আল্লাহর ইচ্ছায়, আল্লাহর আদেশেই করছি?
সয়ং আল্লাহ এ সম্পর্কে আমাদের বলছেন,
{ তারা যখন কোন মন্দ কাজ করে, তখন বলে আমরা বাপ-দাদাকে এমনি করতে দেখেছি এবং 'আল্লাহও আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন'। (হে মুহাম্মদ) আপনি বলে দিন, 'আল্লাহ মন্দকাজের আদেশ দেন না।' এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ কর? যা তোমরা জান না। } (আল আরাফ-২৮)
অজ্ঞতা যে মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু একথা বলবার অপেক্ষা রাখে না। আজ নাস্তিকরা এ কারণেই সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পাচ্ছে। আল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন,'তিনি মন্দ কাজের আদেশ দেন না।' এও বলেছেন যে, বাঁচার জন্য তারা আল্লাহর উপর দোষ চাপিয়ে দেয়। মিথ্যা আরোপ করে।
অবাক লাগে! এরপরও কিভাবে মানুষ বিভ্রান্ত হয়।
দ্বিতীয়ত আল্লাহর ইচ্ছাই সবকিছু হয়। আল্লাহ ইচ্ছা না করলে কোনকিছুই হত না। আল্লাহর ইচ্ছা আছে বলেই আমরা নিজেদের স্বাধীনতায় চলতে ফিরতে পারছি। এর মানে এই নয় যে, আল্লাহই সবকিছুর জন্য দায়ি। কারণ ইচ্ছা বলতেই আমরা শুধু কামনা, বাসনা বুঝাই না। ইচ্ছার আরেকটা অর্থ হলো- অবকাশ।
যেমন- চেয়ারম্যান সাহেব একদমই ক্রিকেট খেলা পছন্দ করেন না। কিন্তু তারই বাড়ির মাঠে প্রতিদিন এলাকার ছেলেরা ক্রিকেট খেলে। এখানে আমি বলতে পারি যে, চেয়ারম্যান সাহেবের ইচ্ছা আছে বলেই তারা তার বাড়ির মাঠে খেলতে পারছে। তিনি যদি না চাইতেন তাহলে তাদের পক্ষে সেই মাঠে খেলা সম্ভব হত না। (কেননা মাঠের জায়গা তার সম্পত্তি) এখানে কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেবের ইচ্ছা মানে পছন্দ, কামনা, বাসনা নয় (কারণ তিনি খেলা পছন্দই করেন না) বরং অবকাশ।
অর্থাৎ সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছাতে হয়।কারণ বিশ্বজগতের সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ না চাইলে কারো কিছু করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু আল্লাহ মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। দিয়েছেন অবকাশ কিছু সময়ের জন্য। পরিক্ষার উদ্দেশ্যে। এ কারণেই মানুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।
{ জালেমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনও বেখবর মনে করো না তাদেরকে তো ঐ দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে। } (ইব্রাহীম- ৪২)
{ যদি আল্লাহ লোকদেরকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুত সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিয়েছেন । অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরাম্বিত করতে পারবে না। } (আন নাহল-৬১)
এতএব মানুষ যে অন্যায় অবিচার করছে এগুলো আল্লাহর থেকে প্রাপ্ত নিজেদের স্বাধীনতা আছে বলেই করছে। আল্লাহ যদি না চাইতেন তাহলে এগুলোও তারা করতে পারতো না। কিন্তু আল্লাহ তো মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। দেখিয়েছেন ভালো-মন্দ দুটি পথ। তাকে পরিক্ষা করার জন্য। এখন বান্দা যদি সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে বিপদগ্রস্ত হয়ে বলে- 'আমার কোন দোষ নেই। আল্লাহ আমাকে স্বাধীনতা, অবকাশ দিয়েছেন বলেই আমি অপরাধ করতে পেরেছি।' এরকম দুমুখো সূলভ আপত্তির কোন মানে হয় না। ( একবার আপত্তি স্বাধীনতা নাই কেন? এটা প্রমাণিত হয়ে গেলে, স্বাধীনতা দিয়েছে কেন?)
লেখক - রবিউল ইসলাম, এক্টিভ নাস্তিকতার মূলোৎপাটন।

0 মন্তব্যসমূহ