ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব
দুনিয়ার লোভ লালসা মানুষকে কতটা নিচে নামিয়ে দেয়। তা আজ আমাদের কাছে প্রতিয়মান।
অসহায়দের মুখ থেকে তারা আজ খাবার ছিনিয়ে নিয়ে হলেও আত্নলালাসার লালায়িত আগুন নেভাতে চায়।কিন্তু এ আগুন তো নেভার নয়।
ক্ষুধার যাতনা বুকে নিয়ে তারা আজ দিন গুনছে, কবে তুলে নেওয়া হবে লকডাউন। কবে আবার খেতে পাবে পেট পুরে। সরকারের সহায়তা যাও একটু বেচে থাকার অবলম্বন হতো, কিন্তু তাও কেড়ে নিচ্ছে সেই দুনিয়া পিপাসু রাক্ষসেরা। কুলাঙ্গার তারা একা নয়, সুযোগ পেলে অধিকাংশই এমন আচরণ করবে। এটাই কি হওয়ার কথা ছিল না! ন্যায়, নৈতিকতা, সততা ও মানবতাহীন এই সমাজে।
যুক্তির কষ্টিপাথরে কি এগুলো মূল্যহীন! যদি না হয়, তাহলে কেন শেখানো হচ্ছে না এগুলো হাতে কলমে! কেন এর বিপরীত দিকে এত আগ্রহী আমাদের শিক্ষা সমাজ। সততা ছাড়া মহাজ্ঞানও কি কোন কাজে আসে!! কী নিশ্চয়তা আছে যে কাল সে মীরজাফরের মতো গোটা দেশকেই বেচে দিবেনা?? দশ আনার লোভে আমরা ষোল আনা খোয়াতে চাই না।
অপ্রত্যাশিত ভাবেই মনে পড়ে যায় বার বার সেই সোনালি যুগের সোনার মানুষদের কথা। কেমন ছিল তাদের আদর্শ! কেমন ছিল তাদের ন্যায়, নৈতিকতা! সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি মৃত্যুর সময়েও তারা অপর ভাইকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
মুখ থেকে খাবার ছিনিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা, কারো ঘরে খাবার নেই, আর তার প্রতিবেশী বেধার্ছে গিলে যাচ্ছে। এ দৃশ্যও কল্পনাতীত । নিজে না খেয়ে প্রতিবেশীকে খাওয়ানোর আদর্শে আদর্শীত ছিল তারা।
কেননা তারা তো তাদের পাঠ্যপুস্তকে রসূল (সঃ)
এর কাছ থেকে শিখেছেঃ সে ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়। যে তৃপ্তি সহকারে খায় অথচ তার প্রতিবেশী অনাহারে ভুগে। (এমন আরো অসংখ্য হাদিস)
প্রতিটা মানুষ যদি আজ এই একটা মাত্র হাদিসের অনুসারী হতো! তাহলে এই পরিস্থিতিতে সরকারের এত নাকানিচুবানি খেত হতো না। কে বুঝাবে! যুগউপযোগী ব্যাবস্থাপনা।
অমর ইবনে আব্দুল আজিজ, খলিফাতুল মু'মিনিন। এলাকার নয়! কয়েকটি দেশের ক্ষমতা প্রধান। খুবই বিলাস প্রিয় ছিলেন তিনি।
কিন্তু অনিচ্ছা সত্বেও ক্ষমতায় আসার পর সব জলাঞ্জলি দিতে হয়েছে তাকে।
কারণ ইসলামে এই সমাজের ন্যায় ক্ষমতা মানেই আলাদীনের চেরাক নয়। অনেক দায়িত্ব। নিজের সাচ্ছন্দ্যটুকুও যে বিসর্জন দিতে হয়।
ইতিহাসবিদদের কোন দ্বিমত নেই যে তার পরিবারের চেয়েও উন্নত মানের খাবার খেত সাধারণ মানুষেরা। যার ফলশ্রুতিতে এই সে মহান ব্যাক্তি! যার যুগে যাকাত খাওয়ারও মানুষ পাওয়া যেত না।
অথচ আমাদের এলাকার নেতারা! ত্রানের মাল নিয়ে হলেও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। না হয়' নির্বাচনে খুয়ানো টাকাটাই যে বৃথা যাবে। কোত্থেকে আসবে সমাজে উন্নতি । দেশে তো দূরের কথা!
এটাই হলো মানবকর্তৃক ও স্রষ্টারকর্তৃক ব্যবস্থাপনার মাঝে পার্থক্য। যেমনটি আল্লাহ বলেছেনঃ এটা খুবই সম্ভবকর যে তোমরা কোনকিছুকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে অপছন্দ করছো অথচ প্রকৃতপক্ষে সেটাই তোমাদের উন্নতির সোপান।
এবং যেটা পছন্দ করছো (উন্নতির সোপান ভাবছো) প্রকৃতপক্ষে তা অবনতির কারণ।
কেননা আল্লাহ সবকিছু জানেন আর তোমরা জান না।

0 মন্তব্যসমূহ