মানুষের অসহায়ত্ব, টলটলে চোখের নোনা পানি, যেন কিছু সময়ের জন্য অবধারিত হয়ে গেছে। বড়রা না হয় পেটে পাথর বেধে হলেও ক্ষুদার যন্ত্রণা হজম করার চেষ্টা করবে, কিন্তু বাচ্চারা!
যখন এসে বলে বাবা, মা! আমার খুব ক্ষিদে পেয়েছে, আমাকে কিছু খেতে দাও। সেই বাবা মার মধ্যে অসহায়ত্ব তখন কেমন তীব্র আকার ধারণ করে! কখনো কি ভেবে দেখেছেন?? যার ফলশ্রুতিতে তাদের মুখ থেকে বেড়িয়ে যায়ঃ আমাদের ছেড়ে দিন, আমরা করোনায় মরতে রাজি কিন্তু না খেয়ে মরতে পারবো না।
আপনার কী মনে হয় এ মানুষগুলোর আশেপাশে কোন বিত্তশালী নেই যে তুলি দিয়েই তাদের সমস্যা সমাধান করে দিতে পারে??
আপনার চোখে, যদি তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে হবে মহান। না হয় সেটা তাদের স্বাধীনতা।
কিন্তু ইসলাম বলে না, এটা তাদের হক (প্রাপ্য) তারা যদি তাদের হক আদায় না করে তাহলে তারা অবশ্যই অপরাধী। ইসলাম মানবতা শিক্ষা দেয়, যার ফলশ্রুতিতে মানবতার সর্বচ্য দৃষ্টান্তটা ইসলামের মধ্যেই পাওয়া যায়।
যুদ্ধে, পিপাসার প্রচন্ড তৃষ্ণায় যখন সকল সাহাবীর বুক ফেটে যাচ্ছে, এমন করুন সময়ও তারা রসুলের সেখানো আদর্শ থেকে এক বিন্দু পিছে হটেনি, এক সাহাবী যখন তৃষ্ণার প্রান্তসীমায় পৌছে পানি বলে চিৎকার দিলেন তখন তার কাছে পানি আসা মাত্রই পাশের আরেকজন চিৎকার করে উঠলো,
পিপাসিত কন্ঠ চেপে ধরে প্রথমজন বললেন আমার ওই ভাইয়ের কাছে নিয়ে যাও সে হয়তো আমার চেয়েও বেশি পিপাসার্ত, দৌড়ে দ্বিতীয়জনের কাছে যাওয়া মাত্রই তৃতীয় আরেকজনও পানি বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো। মুমিন মাত্রই রসূলের আদর্শে উজ্জীবীত দিতীয়জনও অগ্রাধিকার দিলো তার পাশের ভাইকে।
কিন্তু ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস তৃতীয়জনের কাছে যাওয়ার আগেই তিনি ইনতেকাল করলেন, দ্রুত দৌড়ে এলেন দ্বিতীয়জনের নিকট কিন্তু না পিপাসার যাতনা সইতে না পেরে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেছেন। এভাবে প্রথমজনও স্বীয় আদর্শ বাস্তবায়নে মানবতার সর্বোচ্চটা অাগামী প্রজন্মকে শিখিয়ে গেছেন।
এইলোকগুলো এমন ছিল না! তারা ছিল জাহিলি যুগের সবচেয়ে বর্বরতম,হিংস্র, পাষাণ দিলের অধিকারী। লোকলজ্জায় কন্যাদের জীবিত অবস্থায় মাটি চাপা দেয়ার মানুষগুলো আর কেউ না! তারাই। ইসলাম তাদের মধ্যে এ পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আপনকেই শুধু আপন নয়! বরং পরকেউ আপন করতে শিখিয়েছে।
মৃত্যুর কিনারে দাড়িয়েও যারা মানবতার এই বহির প্রকাশ ঘটিয়েছে, জীবদ্দশায় তাদের ময়ামালাত সম্পর্কে কি একটুও জানতে ইচ্ছা করে না!!

0 মন্তব্যসমূহ