অন্তর ব্যথিত হলো।
অনেকদিন পর লঞ্চে চড়েছি আজ।
শেষবার চড়েছিলাম বছর দশেক আগে।
উফঃ কি দুঃসহ, কি ভয়ানক সেই স্মৃতি!
ভাবলেই গা হাত পায়ে কাপা দিয়ে উঠে এখনো।
বৈশাখের এক সন্ধ্যায়,
আকাশ ভেঙে নেমেছিলো ঢল,
আকাশ ফেটে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে,
সঙ্গে ভয়ানক বাতাস।
সেই বাতাসে উত্তাল নদীতে
আমাদের লঞ্চটা ডিঙি নায়ের মত দুলছিলো।
মাঝ নদীতে ডুবে যাবে যাবে ভাব,
শেষ পর্যন্ত ডুবেনি।
ভয় পেয়ে অনেকেই পানিতে ঝাপিয়েছিলো,
তারা পরে ভেসে উঠতে পেরেছিলো নাকি,
ডুবে গিয়েছিলো, সেটা আর জানা হয়নি।
দশ বছর পর আজ যখন আরেকবার,
লঞ্চে চড়লাম-
এবারেও বাংলা মাস বৈশাখ।
তপ্ত দিনের পড়ন্ত বিকালে নদীর বুক চিরে
লঞ্চটা এগিয়ে চলেছে।
আমি যাচ্ছি ভোলা,বন্ধুর বিয়েতে।
সে ফোন করে এমন ভাবে বললো,
আমি আর না করতে পারলাম না।
মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে।
ভেতরে অনেক মানুষ।
এত মানুষের ভীড়ে নামাজ পড়া যায় না।
নামাজ পড়তে আমি ছাদে উঠে আসলাম।
কিছুক্ষণ পর নামাজ শেষ হলো।
জায়গাটা ছেড়ে আমার উঠতে মন চাইলো না
আমি উঠলাম না।
হাটু মোড়ে বসে রইলাম খানিকক্ষণ।
হঠাৎ-ই দেখলাম
কোথেকে যেন এক ভদ্রলোক এসে বসলেন আমার পাশে।
তার গায়ে প্যান্ট, স্যুট, টাই
পায়ে কালো রঙের দামি শো।
আমি কিছু বললাম না, চুপ করে রইলাম।
লোকটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই সিগারেট ধরালেন,
দিয়াশলাইয়ের পোড়া কাঠিখানি ছুড়ে ফেললেন নদীতে।
তারপর,
জ্বলন্ত সিগারেট খানি মুখ থেকে নামিয়ে বললেন,
কিছু মনে করবেন না জনাব,
আপনি কি সিগারেট খান?
আমি শুধু বললাম, না।
আমার এই না উত্তরে ভদ্রলোক কিঞ্চিৎ লজ্জা পেয়েছেন।
তার সেই লজ্জার প্রমাণ,
হাতের আস্ত সিগারেট খানি ছো মেরে নদীতে ফেলে দেওয়া।
আমি খানিকটা অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম,
এটা করলেন কেন?
তিনি বললেন,
আপনি খান না, তাই ফেলে দিলাম।
আমি বিস্মিত নয়নে লোকটার দিকে ক্ষনিকের জন্য তাকালাম।
আমার চাহনি বোধ হয়,
লোকটাকে বেশ খুশি করেছে।
চোখে মুখে খুশি নিয়ে ভদ্রলোক হাত বাড়ালেন আমার দিকে। বললেন,
আমি মুহিবুর রেহমান। পেশায় সাংবাদিক।
আমিও তার দিকে হাত বাড়ালাম।
জিজ্ঞেস করলাম,
আপনার নাম ;
মুহিবুর রেহমান নাকি রহমান?
ভদ্রলোক অল্প করে হাসলেন। বললেন,
আপনি ভুল শোনেননি জনাব।
আমার নামের শেষে ওটা রেহমান-ই রহমান নয়।
আমি বললাম,
ওটা রেহমান-ই কেন? রহমান কেন নয়?
ভদ্রলোক স্বাভাবিক গলায় বললেন,
রহমান নামটা কেমন যেন মৌলবাদি মনে হয়
লোকটার এমন উত্তর আমাকে
আহত করলো। অন্তর ব্যথিত হলো।
লেখক, মনির হুসাইন
সাহিত্য বিভাগ-
nastikotarmulotpaton.blogspot.com

0 মন্তব্যসমূহ