Provability of random universes. স্রষ্টাহীন আপনা আপনি বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা।

                পৃথিবীতে অনেককিছু এমন আছে যেগুলো এমনিতেই বুঝে আসে কোন প্রকার যুক্তি প্রমাণ ছাড়াই। তার যে যুক্তি প্রমাণ নেই ব্যাপারটি এরকম নয়, বরং সেটি এতটাই স্পষ্ট যে যুক্তি প্রমাণের আর দরকার হয় না। 


যেমন অার্জেন্টিনার বিদ্যমানতা। আমরা কিন্তু অনেকেই দেখেনি অার্জেন্টিনা আছে কিনা। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে শুনেছি মাত্র। কিন্তু তবুও আমরা তাকে দেখার মতোই বিশ্বাস করি। এটা হয় কিছু আরগানাইজ এর উপর বিশ্বাস করে। যেগুলোকে আমরা ধরেই নেই যে তারা যা বলছে সত্যই বলছে। 


আবার যদি কোন বিষয় আমাদের বোধগম্যের বাহিরে হয়। তাহলে আমরা সেটাকে সাথে সাথে মিথ্যা কিংবা অসম্ভব বলে বাতিল করে দেই। যুক্তি প্রমাণের প্রয়োজননীয়তাও অনুভব করি না। উদাহরণ হিসেবে এখানে কিছু বোধশক্তিহীন পাতি নাস্তিকের কথা উল্লেখ্য করা যায়, যারা স্রষ্টার কন্সেফটে গিয়ে এই বলে আপত্তি করে যে, যদি বাধ্যতামূলক ভাবে স্রষ্টাকে মেনে নিতে হয় তাহলে গোড়ার ডিম আছে এটাও মেনে নিতে দোষ কী?


তারা নাস্তিকতার প্রেমে পড়ে নিজেদের রেশেনাল  কেপাসিটিই হারিয়ে ফেলেছে। গোড়ার ডিম বললেই মানুষের ব্রেনে একটা কাউন্টিং চলে আসে যে, এর কোন অস্তিত্ব নেই। কারণ গোড়া ডিম পারে না। এখানে 'গোড়ার ডিমের' অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি প্রমাণেরও আশা ব্যতিরেকেই মানুষ এটাকে নাকচ করে দেয়। because it's out of rationality.


আবার ধরুন প্রত্যেকটা প্রণীর পেট থেকে সেই প্রাণীরই জন্ম হয়। এটা আমাদের বোধগম্য বিষয়। এটা বিশ্বাস করাতে আমাদের কোন রকম প্রমাণ পেশ করতে হয় না। কিন্তু কেউ যদি বলে অমুক ছাগলের পেট থেকে হরিণের বাচ্চার জন্ম হয়েছে। তাহলে সেটা মানুষ প্রমাণ চাওয়া ছাড়াই মিথ্যা, অসম্ভব, শব্দগুলো বলেই নাকচ করে দিবে। এই যে, যুক্তি প্রমাণ ছাড়াই মানুষ কিছু বিষয় অটোমেটিকলি মেনে নেয়ার কিংবা নাকচ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এটাকে বলে রেশেনাল পাওয়ার। যে রেশনাল পাওয়ারের বলে প্রত্যেকটি মানুষ হোক সে যে কোন  দেশের অধিভাষী, কোন যুক্তি প্রমাণ ছাড়াই স্রষ্টাকে অটোমেটিকলি মেনে নেয়।


কজ এন্ড এফেক্ট, পৃথিবীতে ধ্রুব সত্য বলে কিছু বিষয় আছে যেগুলোর ব্যাপারে কখনোই কোন আপত্তি আসেনি। যেমন পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে তার সবকিছুরই পিছনে একটা কজ এন্ড এফেক্ট রয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ কোন দ্বিমত করবে না। তবে নাস্তিকদের (অজ্ঞেয়বাদীদের নয়) পক্ষ থেকে দ্বিমত আছে এই জায়গাতে যে, বিশ্বজগতের ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের পিছনে কোন কজ এন্ড এফেক্ট নেই। 


অর্থাৎ শুধুমাত্র নাস্তিকরা বিশ্বাস করে যে, বিশ্বজগৎ সৃষ্টির পিছনে কারো হাত নেই। এর নিখুঁত নিরুপমা Intelligent Design এমনি এমনিই এলোমেলো ভাবে এক্সিডেন্টলি সৃষ্টি হয়ে গেছে। 


আরেকটু ক্লিয়ার করে বলি, পৃথিবীতে আমরা সুন্দর, ডিজাইনিবল যা কিছুই দেখি। সবকিছুর পিছনেই একজন ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনারের হাত রয়েছে। ডিজাইনার ছাড়া একটা ছোট্ট নকশাও আমরা কল্পনা করতে পারি না। এটা তো সবাই বিনা বাক্য বেয়ে মেনে নেয়। এখানে একজন নাস্তিকও বলবে না যে, একটি ছোট্ট নিমকদানিও কারো হস্তক্ষেপ ছাড়া তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বজগৎ এবং এর ভিতরে যা কিছু আছে মানুষসহ সকল প্রণীর এমন নিখুঁত ডিজাইন ও নিরুপম ব্যবস্থাপনা নাস্তিকদের মতে এমনেই এক্সিডেন্টলি কোন ডিজাইনারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সৃষ্টি হয়ে গেছে। বিষয়টা এমন যে, দশতলা উপর থেকে কেউ দু'তিনটি প্লাস্টিক, লোহা কাচ ইত্যাদি ফেলে দিল আর সেগুলো নিচে পড়ে অপরূপ সুন্দর ডিজাইনের নিখুঁত কম্পিউটার হয়ে গেল। (অক্ষমতার কারণে এর চেয়ে ভালো উদাহরণ দিতে পারলাম না। যদিও তাদের বিশ্বাসের তুলনায় এই উদাহরণ কিছুই না।)


প্রথমেই আমরা দেখেছিলাম যে, কিছু বিষয় মানুষের বোধগম্যের বিপরীত হওয়ার কারণে সেগুলোকে যুক্তি প্রমাণের কন্সেফটে না গিয়েই

নাকচ করে দেয়া হয়। নাস্তিকদের এই দাবিটাও এই টাইপেরই। 


এই ধরনের একটি আনেক্সেপ্টেবল দাবি করেও 

 তারা স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলে এই ভেবে যে, বিশ্বজগতের স্রষ্টাকে তো দেখা যায় না। তাদের যুক্তির ভাবখানা এমন- যেহেতু ফার্নিচার বানানে ওয়ালাকে আমরা দেখতে পাই সেহেতু ডিজাইনার ছাড়া ফার্নিচার বানানো অসম্ভব। আর বিশ্বজগতকের স্রষ্টাকে যেহেতু আমরা দেখতে পাই না সেহেতু এটা ডিজাইনার ছাড়াই বানানো সম্ভব। কী অদ্ভূত যুক্তি!


ক্রিয়াটাই কি কর্তাকে জাস্টিফাই করার জন্য যথেষ্ট নয়!!


তবে দাবি যেহেতু করেই ফেলেছে, আর নাস্তিক কমিউনিটি পুরোটাও এতে একমত, সেহেতু বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সাইন্টিস্ট দার্শনিকগন তাদের বাতুলতা বিভিন্ন রিসার্চের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। হার্ভার্ট ইউনিভার্সিটির ফিজিসিস্ট পল ডেভিস 'God and the new physics' ( বইটি প্রথম কমেন্টে দেয়া হয়েছে) বইতে পৃথিবীর এক্সিডেন্টলি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি ম্যাথমেটিক্যাল এভিডেন্স উল্লেখ্য করেছেন। 


মাঝে মাঝে আমরা কাকতালীয় কিছু বিষয় দেখে থাকি যা আমাদেরকে রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে যে,এটা কি কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত, যেমন - অপ্রত্যাশিত কারো সাথে একই যায়গাতে একই সময় দুই তিনবার দেখা হয়ে যাওয়া। বেখেয়ালি মনে হাত থেকে কিছু একটা পড়ে তার যথা স্থানে সেট হয়ে যাওয়া। এই বিষয়গুলোকে মানুষ ধারাবাহিকতার সাথে দু'তিন বার হয়তো কাকতালীয় মেনে নিবে। আবার কেউ কেউ হয়তো দশ বারো বার! কিন্তু প্রতিনিয়ত প্রতিটা জিনিস যদি এক্সিডেন্টলি নিখুঁততার সাথে উপস্থাপিত হতে থাকে তাহলে কি পরিকল্পিত না ভেবে কাকতালীয় ভাবার সম্ভবনা বাকি থাকে? 


বিশ্বজগৎ যে কতটা নিখুঁত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর সাথে কোন কিছুর জাস্ট তুলনা হয় না। অতুলনীয় এক বিশ্বজগতে বসবাস অনু পরিমান খুঁত বিহীন সৃষ্টি কুলের। 


মহাবিশ্বে চারটা ফোর্স (শক্তি) এর অস্তিত্ব স্বীকার্য। সেগুলো হচ্ছে, Strong Nuclear Force, Weak Nuclear Force, Electromagnatic Force, Gravitional Force.

এই চারটা জিনিস মহাবিশ্বের জন্মলগ্ন থেকে একেবারে ঠিক সেই অনুপাতেই আছে, যে অনুপাতে হলে আমাদের মহাবিশ্ব অস্তিত্বে আসতে পারে। Strong Nuclear Force ঠিক যে পরিমাণে আছে, যদি তার চেয়ে এক পার্সেন্ট কম বা বেশি থাকতো, তাহলে হয়তো আমাদের মহাবিশ্বে শুধু হাইড্রোজেন থাকতো, অথবা একেবারে হাইড্রোজেন ছাড়া হয়ে যেতো। এমতাবস্থায়, সেই মহাবিশ্বে কোনভাবেই প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব হতো না।


মহাবিশ্বের জন্মলগ্নে Weak Nuclear Force এর পরিমাণ এখন যা আছে যদি তারচেয়ে একটু কম বা একটু বেশি হতো, তাহলে হয়তো মহাবিশ্বে খুব বেশি পরিমাণে হিলিয়াম গ্যাস তৈরি হতো, অথবা একেবারে হিলিয়াম গ্যাস বিহীন একটা মহাবিশ্ব আমরা পেতাম। এমনটা হলে কি হতো জানেন? কোন গ্রহই মহাবিশ্বে অস্তিত্ব লাভ করতো না।

Electromagnatic Force যদি যে পরিমাণ আছে তারচেয়ে সামান্য পরিমাণ কম থাকতো, তাহলে মহাবিশ্বের সব ইলেক্ট্রণ হাওয়ায় মিলিয়ে যেতো এবং এখানে কোন ধরণের অণুই অস্তিত্ব লাভ করতে পারতো না। আবার, Electromagnatic Force যদি যে পরিমাণ আছে, তারচেয়ে সামান্য পরিমাণ বেশি থাকতো, তাহলে পরমাণু কোন ইলেক্ট্রণকেই কনসিস্ট করতে পারতো না। ফলে তখনই কোন প্রকার অণুর অস্তিত্ব লাভ করা সম্ভব হতো না।


এরপর আসা যাক Gravitional Force এর কথায়। এটা যদি যে পরিমাণ আছে, তারচেয়ে সামান্য একটু বেশি থাকতো, তাহলে কি হতো বলুন তো ? গ্রহগুলো মাত্রাতিরিক্ত গরম থাকতো এবং সারাজীবন ধরে দাহ্য হতেই থাকতো। জীবন ধারণের জন্য কোনভাবেই উপযোগি হতোনা। আবার, Gravitional Force যদি সামান্য একটু কম হতো, তাহলে কি হতো জানেন? গ্রহগুলোর দাহ্যশক্তি এতোই কম হতো যে সেগুলো ঠান্ডা হয়ে পড়তো। এরকম গ্রহও কোনভাবে জীবন ধারণের জন্য উপযোগি হতো না।


এরকম আরও লক্ষ কোটি বিষয় আছে যার মধ্যে একটু হেরফের হলে বিশ্বজগত বলতে কিছুই থাকতো না। 


পল ডেবিস তার রিসার্চের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, বিশ্বজগতের সবকিছু হঠাৎ করেই  অপরিকল্পিত ও কাকতালীয় ভাবে সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা হচ্ছে -

1 chance in 10 to the power of 10-30.


অর্থাৎ একের পর যদি তিন হাজারটা শুন্য লাগানো হয় তাহলে সংখ্যাটা যত বড় হবে তার সাথে আবার এককে ভাগ করলে সংখ্যাটা যত ক্ষুদ্র হবে পৃথিবীর এক্সিডেন্টলি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও ততটুকু। 

 

এই সংখ্যাটার ক্ষুদ্রতা এতই বেশি যে, একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তাই পল ডেভিস একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আরো ক্লিয়ার করেছেন। বিশাল সমুদ্র থেকে এক অণু পানি উঠালে সমুদ্রের তুলনায় সেই এক অণু পানি যতটুকু ঠিক ততটুকু হচ্ছে নাস্তিকদের বিশ্বাস সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা। ভাবা যায়!! আমের মধ্যে খেজুরের আটি পাওয়ার সম্ভাবনাও হয়তো বা এর চেয়ে বেশি। 


আরেক ভাবে বললে, আমরা যে লুডু খেলি তার ডাইস থাকে ছয়টি, যার ফলে অনেকেই সেটাকে ছক্কা বলে থাকে। ধরা যাক সেই ছক্কার মধ্যে ছয়টি ডাইস না হয়ে সমুদ্রের যত অণু পানি আছে তত পরিমাণ ডাইস বাড়ানো হলো। (যদিও এটা সম্ভব নয়) এখন যদি সেই ছক্কাটা মারা হয় তাহলে নাস্তিকদের সেই প্রত্যাশিত নির্দিষ্ট একটা সংখ্যা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু??


তারপরও নাস্তিকরা জোর গলায় বলবে তারা যুক্তি প্রমাণ ছাড়া কোন কিছু বিশ্বাস করে না। 

আর আস্তিকরা শুধুই অন্ধ বিশ্বাস করে। 


লেখক- রবিউল ইসলাম। এক্টিভ নাস্তিকতার_মূলোৎপাটন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ