ইন্ডিয়ায় পলাতক এক নাস্তিকের ওয়াজ। এবং অন্ধ নাস্তিকদের আবেগ। ভাবটা,যেন 'মানবতা উথলে পড়ে'৷

 

ওনাকে নিয়ে লেখারই রুচি হয় না। তবুও লিখতে হয়, কারণ অন্ধ নাস্তিকদের জন্য বড্ড মায়া হয়। ধর্ম সম্পর্কে না জেনে, না বুঝে আজ তারা বিভ্রান্তির শিকার।
________________________________________
শাহরুখ খান নাকি তার সন্তানদের ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন,
তারা ভারতীয়। ধর্মের জায়গায় লিখা থাকবে তারা ভারতীয়। এবং এটাই হওয়া উচিত নাস্তিকরা মনে করেন। আমার প্রশ্ন, ধর্মের পরিচয় ঠিক রেখে কি ভারতীয় হওয়া যায় না? যদি হওয়া যায়, তাহলে ধর্মের জায়গায় ভারতীয় লেখার কী মানে? আর যদি ধর্মের পরিচয় ঠিক রেখে খাঁটি দেশপ্রেমিক হওয়া না যায়, তাহলে ভারতের মুদি সরকার, বাংলাদেশের শেখ মুজিব ও জিয়া কি দেশপ্রেমিক ছিলো না? এখানে স্পষ্ট শাহরুখ খান বেচারা, ফাঁদে পড়েছে। কারণ, তার স্ত্রী হিন্দু আর তিনি মুসলিম। তাই যদি সন্তানদের পরিচয় মুসলিম দেয় , তাহলে হিন্দু কমিউনিটি বেজার। আর যদি সন্তানদের পরিচয় হিন্দু দেয়, তাহলে মুসলিম কমিউনিটি বেজার। এই সোজা লজিকটা পলাতক নাস্তিক বুঝতে পারলো না।
পলাতক নাস্তিক ধর্মের প্রতি এতোটাই বিদ্বেষ রাখে, যার কারণে কী থেকে কী বলে নিজেও হয়ত মিলিয়ে দেখে না। সে সব সময় বুঝাতে চায়, ধর্মগুলো মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে। অশান্তি বাড়ায়।
এটা আসলে শুধু তার ধারণা নয়। বাংলাদেশের এক উগ্রবাদী নাস্তিক ( অভিজিৎ) এরো এমন ধারণা ছিলো। এবং অন্যান্য নাস্তিকরাও হয়তো এমনটাই মনে করে৷
তাই তাদের কাজ ধর্মগুলোকে ধ্বংস করা। যদিও ধর্মেকে ধ্বংস করতে গিয়ে নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যায়।
তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আজকের পৃথিবীতে সবচে বেশি অমানবিকতা সৃষ্টি করছে জাতীয়তাবাদ। এই জাতীয়তাবাদ এর কারণে বিশ্বে আজ মানবতার করুণ অবস্থা। লাদাখ সীমান্তে চিন ভারত যুদ্ধ। কিসের কারণে? ধর্মের কারণে? না। জাতীয়তাবাদের কারণে।
পাকিস্তান ভারত যুদ্ধ লেগে থাকে। কিসের কারণে? ধর্মের কারণে? না। জাতীয়তাবাদের কারণে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আজ অসহায়। সর্বোচ্চ অমানবিক নির্যাতনের শিকার তারা। কিসের কারণে? ধর্মের কারণে? না। বরং এই জাতীয়তাবাদের কারণে।
কিন্তু এ নিয়ে কি নাস্তিকদের কোনো ভূমিকা আছে? কখনো কি বলেছে, পৃথিবীতে এতো রাষ্ট্র কে? আজ আলাদা আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার কারণে, কখনো সীমান্ত নিয়ে যুদ্ধ। কখনো নাগরিক নিয়ে যুদ্ধ। কখনো বা ভূখন্ড নিয়ে যুদ্ধ। সুতরাং সব রাষ্ট্র ভেঙে একটি রাষ্ট্র করা হোক৷
প্রত্যেকটা রাষ্ট্রের আছে অসংখ্য গোলাবারুদ। মৌজুদ আছে অসংখ্য যোদ্ধা। কেনো? ধর্মকে রক্ষা করার জন্য? ধর্মের জন্য যুদ্ধ করার জন্য? না। এই জাতীয়তাবাদ রক্ষা করার জন্য। স্বদেশ বাঁচাতে অপর দেশকে পুড়িয়ে ছাই করতেও তারা প্রস্তুত।
কিন্তু নাস্তিকরা কি কখনো এ বিষয়ে মুখ খুলেছে? কখনো কি প্রতিবাদ করেছে, জাতীয়তাবাদ ধ্বংস করা হোক?
এখন আসি, আরো কাছে। এই আমাদের বাংলাদেশ। রাজনৈতিক দল মতের কারণে প্রায় সময় মারামারি হচ্ছে। একদল ক্ষমতায় থাকলে অপর দলের জিল্লতি। রাজনৈতিক ইস্যুতে কতোজন যে স্বদেশ ছেড়েছে তার ইয়ত্তা নেই । ধর্মীয় ইস্যুতে তার ১০০ ভাগের এক ভাগো দেশ ছাড়েনি। যদি নাস্তিকরা আসলেই মানবতাবাদী হতো, তাহলে তাদের সর্বাগ্রে কাজ হতো এগুলো নিয়ে কাজ করা৷ এগুলো নিয়ে কথা বলা।
কিন্তু তা না। সারা দিন আছে শুধু ধর্ম নিয়ে। ওই যে বললাম, ধর্মের প্রতি তাদের এতোটাই বিদ্বেষ, কী থেকে কী বলে হয়ত নিজেরাই জানে না। তাই চিন্তাশীল নাস্তিকদের বলবো, আপনারা নিজের মতবাদ নিয়ে একটু ভাবুন। এবং ধর্মগুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জানুন। হয়ত সঠিক পথ পেয়ে যাবেন।
লেখক, আব্দুর রাজ্জাক। একটিভ, নাস্তিকতার মূলোৎপাটন।








একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ