কোরআন হাদিসে তুষারপাত সম্পর্কে কি সত্যিই কিছু বলা হয়নি ?


 সম্প্রতি একজন নাস্তিকের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন, আল্লাহ তুষারপাত সম্পর্কে জানতেন না, তাই কুরআনে বৃষ্টি, বজ্রপাত, মেঘ এর কথা উল্লেখ্য থাকলেও তুষারপাত এর কথা নেই। তার দাবি আরবে নাকি তুষারপাত হয় না। তাই তুষারপাত সম্পর্কে নবীজী সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম এরও জানা ছিল না। তাই কোনো হাদীসেও তুষারপাত এর কথা পাওয়া যায় না৷ (নাউজুবিল্লাহ) মূলত তার এসব কথা দ্বারা তার ভাষাজ্ঞান এর সংকীর্ণতাই প্রকাশ পেয়েছে৷

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یُزۡجِیۡ سَحَابًا ثُمَّ یُؤَلِّفُ بَیۡنَہٗ ثُمَّ یَجۡعَلُہٗ رُکَامًا فَتَرَی الۡوَدۡقَ یَخۡرُجُ مِنۡ خِلٰلِہٖ ۚ وَ یُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مِنۡ جِبَالٍ فِیۡہَا مِنۡۢ بَرَدٍ فَیُصِیۡبُ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ وَ یَصۡرِفُہٗ عَنۡ مَّنۡ یَّشَآءُ ؕ یَکَادُ سَنَا بَرۡقِہٖ یَذۡہَبُ بِالۡاَبۡصَارِ ﴿ؕ۴۳﴾
তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ মেঘমালাকে পরিচালিত করেন, তারপর তিনি সেগুলোকে একত্রে জুড়ে দেন, তারপর সেগুলো স্তুপীকৃত করেন, তারপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে বৃষ্টির বের হয়। আর তিনি আকাশে স্থিত মেঘমালার পাহাড় থেকে শিলা বর্ষণ করেন। তারপর তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন। আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা তা সরিয়ে দেন। এর বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়।
সূরা নুর : অায়াত নং-৪৩
এই আয়াতে যে برد শব্দটি রয়েছে, সেটির ইংরেজি হলো Hail, এই Hail শব্দটি অাবার snow এর synonym ।আরেকটু ভালোভাবে খেয়াল করুন, برد শব্দের পূর্বে রয়েছে من جبال অর্থ পাহাড়-পর্বত থেকে, সুতরাং এই আয়াতে برد শব্দটি মূলত তুষারপাতকেই indicate করে। কিন্তু বাংলাদেশ এর ছাপাকৃত বঙ্গানুবাদগুলিতে برد এর অর্থ করা হয়েছে শিলাবৃষ্টি কারণ বাংলাদেশীদের জন্যে "শিলাবৃষ্টি " শব্দটি বুঝা সহজ।
21:69
قُلۡنَا یٰنَارُ کُوۡنِیۡ بَرۡدًا وَّ سَلٰمًا عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ ﴿ۙ۶۹﴾
আমি বললাম, ‘হে আগুন, তুমি তুষারের ন্যায় শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও ইবরাহীমের জন্য’ ।
সূরা আম্বিয়া : অায়াত নং -৬৯
এই আয়াতে بردا শব্দের অর্থ হলো তুষারের ন্যায় শীতল, سلاما শান্তিদায়ক। সুতরাং বুঝা ই যাচ্ছে, কাফিররা যখন ইবরাহিম আঃ কে আগুনে নিক্ষেপ করে তখন আসমান থেকে তুষারপাত হয় গায়েবিভাবে অথবা আগুন তুষারে পরিণত হয়।
78:24
لَا یَذُوۡقُوۡنَ فِیۡہَا بَرۡدًا وَّ لَا شَرَابًا ﴿ۙ۲۴﴾
সূরা নাবা : আয়াত নং-২৪
সেখানে তারা কোন তুষার এর ন্যায় শীতলতা আস্বাদন করবে না এবং না কোন পানীয়।
এই আয়াতে জাহান্নামি উত্তপ্ততার বর্ণনা করতে গিয়ে, এই অংশটুকু আনা হয়েছে৷ অর্থাৎ সেখানে কোনো তুষারপাত হবে না, যাতে করে জাহান্নামের অগ্নি নিভে যাবে, অথবা শীতল কোনো পানীয়ও পান করানো হবে না৷
56:42
فِیۡ سَمُوۡمٍ وَّ حَمِیۡمٍ ﴿ۙ۴۲﴾
তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচন্ড উত্তপ্ত পানিতে,
56:43
وَّ ظِلٍّ مِّنۡ یَّحۡمُوۡمٍ ﴿ۙ۴۳﴾
আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
56:44
لَّا بَارِدٍ وَّ لَا کَرِیۡمٍ ﴿۴۴﴾
যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়।
بردا ও بارد এই শব্দগুলিও মূলত برد শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ তুষার অথবা বরফের ন্যায় শীতল।
সূরা ওয়াকিয়া : ৪২-৪৪
3:117
مَثَلُ مَا یُنۡفِقُوۡنَ فِیۡ ہٰذِہِ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا کَمَثَلِ رِیۡحٍ فِیۡہَا صِرٌّ اَصَابَتۡ حَرۡثَ قَوۡمٍ ظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَاَہۡلَکَتۡہُ ؕ وَ مَا ظَلَمَہُمُ اللّٰہُ وَ لٰکِنۡ اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ ﴿۱۱۷﴾
তারা দুনিয়ার জীবনে যা ব্যয় করে, তার উপমা সেই বাতাসের ন্যায়, যাতে রয়েছে শৈত্যপ্রবাহ, যা পৌঁছে এমন কওমের শস্যক্ষেতে, যারা নিজদের উপর যুলম করেছিল। অতঃপর তা শস্যক্ষেতকে ধ্বংস করে দেয়। আর আল্লাহ তাদের উপর যুলম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজদের উপর যুলম করে।
সূরা আলে ইমরান : আয়াত নং -১১৭
এই আয়াতেও শৈত্যপ্রবাহ বলতে তুষারপাতকেই বুঝায়৷
عن عاءشة رضى الله عنها كان رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول اللهم اغسل خطاياي بماء الثلج والبرد
হযরত আয়িশা রাঃ থেকে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বলে দুআ করতেন,হে আল্লাহ, আমার ভুলসমূহ বরফ এবং ঠান্ডা শীতল পানি দ্বারা ধুয়ে দিন।
সহীহ বুখারী হাদীস নং -৫৯৩৫
খুব মনোযোগ এর সহিত লক্ষ্য করুন, এই হাদীসে ثلج শব্দটি রয়েছে। আমি দর্শকদের বুঝার সুবিধার্থে নামিদামি আরবি অভিধানগুলির রেফারেন্স দেইনি। শুধুমাত্র গুগলে "তুষার" লিখে এই শব্দটিকে আরবিতে গুগল ট্রান্সলেট করুন। অতিসহজেই যে আরবি শব্দটি চলে আসবে, সেটি হলো ثلج । একটি হাদীস উদাহরণ হিসেবে পেশ করলাম, এই হাদীসটিতে ثلج শব্দটি রয়েছে। বাংলাদেশ এর হাদীস এর বঙ্গানুবাদগুলিতে এর অনুবাদ করা হয় "ঠান্ডা শীতল পানি" অথচ এই শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে তুষারপাত বা বরফ এর পানি।
সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে জানলেন ثلج সম্পর্কে? নাস্তিক লোপা দাবি করলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি তুষারপাত কখনো দেখেন নি অথবা এ সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিল না। তাহলে হাদীসে ثلج শব্দটি এলো কোথা থেকে?
অথচ নাস্তিক লোপা দাবি করলেন, হাদীসে কোথাও নাকি "তুষার বা তুষারপাত " এর কথা নেই।
স্ক্রিনশটগুলি দেখুন, বুঝতে সহজ হবে৷
দর্শকদের বুঝার সুবিধার্থে ড.
মুহাম্মদ ফজলুর রহমান এর আল মু'জামুল ওয়াফী প্রসিদ্ধ এই আরবি - বাংলা অভিধানটির ৩৪৬ এবং ৩৪৭ নং পৃষ্ঠা দেখার অনুরোধ করছি৷ যেখানে ثلج এবং এর বহুবচন ثلوج এর অর্থ তোলা হয়েছে বরফ, তুষার, হিমানী, নীহার ইত্যাদি৷ এবং ثلج এর ফে'ল হিসেবে অর্থ তোলা হয়েছে তুষারবর্ষণ। এমনকি গুগল ট্রান্সলেটে 'তুষারপাত" শব্দটি লিখে সার্চ দিলে
تساقط الثلوج শব্দটি আসবে। এছাড়াও আপনি অাপনার পছন্দনুযায়ী যে কোনো অভিধান চেক করতে পারেন৷
এমনকি আল মু'জামুল ওয়াফী আরবি- বাংলা অভিধান এর ২১৩ নং পৃষ্ঠা খুললেই পাবেন, যেখানে برد শব্দের অর্থ তোলা হয়েছে শিল, শিলা, হিমশিলা, করকা ইত্যাদি। এবং ফেয়েল তথা ক্রিয়া হিসেবে برد এর অর্থ তোলা হয়েছে শিলা পড়া৷
নিম্নে অারো কয়েকটি হাদীস পেশ করছি, যাতে برد ও ثلج শব্দটি রয়েছে।
وَعَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَلَى جَنَازَةٍ، فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ، وَاعْفُ عَنْهُ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ، وَقِهِ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘আউফ্ বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি জানাযার সলাত আদায় করছিলেন; আমি তাঁর এ দুআটি মুখস্থ করে নিলাম। উচ্চারণঃ আল্লাহুম-মাগফির লাহূ ওয়ারহামহু, ওয়া ‘আফিহি, ওয়া’ফু আন্‌হু, ওয়া আক্‌রিম নুযুলাহূ, ওয়া ওয়াস্‌সি মাদ-খালাহূ, ওয়াগসিলহু বিলমা’ই ওয়াস সাল্‌জি ওয়াল বারাদি, ওয়া নাক্কিহী মিনাল খাতাইয়া কামা নাক্কায়তাস সাউবাল আবইয়াযা মিনাদ দানাসি, ওয়া আবদিলহু দারান খায়রান মিন দারিহি, ওয়া আহলান খায়রান মিন আহলিহী, ওয়া যাওজান খায়রান মিন যাওজিহি, ওয়া আদ্‌খিলহুল জান্নাতা, ওয়াকিহী ফিতনাতাল কাবরি ওয়া ‘আযাবান নার] অর্থঃ ইয়া আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দাও, তার উপর করুণা কর, তাকে শক্তি দাও এবং তাকে রেহাই দাও। তার উপর সহৃদয় হও এবং তার প্রবেশদ্বার প্রশস্ত করে দাও এবং তাকে পানি, বরফ ও তুষার দ্বারা ধৌত করে দাও। তার গুনাহসমূহ পরিস্কার করে দাও, সাদা কাপড় যে ভাবে দাগমুক্ত করে ধৌত করা হয়। সে যে ধরণের আবাসের সঙ্গে পরিচিত তার থেকে তাকে উত্তম আবাস দাও এবং যে ধরণের পরিবারের সঙ্গে পরিচিত তার থেকে উত্তম পরিবার দাও এবং তার স্ত্রী হতে উত্তম স্ত্রী দাও। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবরের ফিতনা হতে আর জাহা্ন্নামের আগুন হতে তাকে রক্ষা কর। [৬০৩]
ফুটনোটঃ
[৬০৩] মুসলিম ৯৬৩, তিরমিযী ১০২৫, নাসায়ী ১৯৮৩, ১৯৮৪, মুসলিমের বর্ণনায় আরো রয়েছে, আওফ (রাঃ) বলেনঃ [আরবী] মৃত ব্যক্তির উপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উক্ত দু‘য়ার কারণে আমি কামনা করেছিলাম যদি আমি সেই মৃত ব্যক্তিটি হতাম!
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ الْجَوَائِحُ كُلُّ ظَاهِرٍ مُفْسِدٍ مِنْ مَطَرٍ أَوْ بَرْدٍ أَوْ جَرَادٍ أَوْ رِيحٍ أَوْ حَرِيقٍ ‏.‏
আত্বা (রহঃ) সূত্র থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, ‘জায়িহাহ’ বলা হয় এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগকে যাতে প্রকাশ্য ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। যেমন অতিবৃষ্টি, তুষারপাত, পঙ্গপালের আক্রমন, ঝড়, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৪৭১
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ (আরবি) “হে আল্লাহ্‌! আমার পাপসমূহ তুষার, পানি এবং মেঘের পানি দ্বারা ধুয়ে ফেল।”
সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩৩৪
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مَنْصُورٍ أَبُو عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَعْوَرُ، بِالْمَصِّيصَةِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْهَاجِرَةِ إِلَى الْبَطْحَاءِ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ، وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ، وَبَيْنَ يَدَيْهِ عَنَزَةٌ‏.‏ ‏{‏قَالَ شُعْبَةُ‏}‏ وَزَادَ فِيهِ عَوْنٌ عَنْ أَبِيهِ أَبِي جُحَيْفَةَ قَالَ كَانَ يَمُرُّ مِنْ وَرَائِهَا الْمَرْأَةُ، وَقَامَ النَّاسُ فَجَعَلُوا يَأْخُذُونَ يَدَيْهِ، فَيَمْسَحُونَ بِهَا وُجُوهَهُمْ، قَالَ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ، فَوَضَعْتُهَا عَلَى وَجْهِي، فَإِذَا هِيَ أَبْرَدُ مِنَ الثَّلْجِ، وَأَطْيَبُ رَائِحَةً مِنَ الْمِسْكِ‏.‏
হাকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, আমি আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) -কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুপুর বেলায় বাতহার দিকে বেরোলেন। সে স্থানে উযূ করে যুহরের দু’রাকআত ও আসরের দু’ রাক’আত সালাত আদায় করেন। তাঁর সামনে একটি বর্শা পোঁতা ছিল। বর্শার বাহির দিয়ে নারীরা যাতায়াত করছিল। সালাত শেষে লোকজন দাঁড়িয়ে গেল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দু’ হাত ধরে তারা নিজেদের মাথা ও মুখমণ্ডলে বুলাতে লাগলেন। আমিও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর হাত ধরে আমার মুখমণ্ডলে বুলাতে লাগলাম। তাঁর হাত তুষারের থেকেও স্নিগ্ধ শীতল ও কস্তুরীর থেকেও বেশি সুগন্ধিময় ছিল।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৫৫৩
এই হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাত মুবারককে শুভ্র তুষারের ন্যায় শীতল হিসেবে তুলনা করা হয়েছে৷ সাহাবী রাযিঃ, তারা যদি তুষার এবং তুষারপাত সম্পর্কে অজ্ঞ হতেন, তাহলে রাসূল সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাত মুবারককে তারা কেন শুভ্র - শীতল তুষারের সাথে তুলনা করলেন?
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، جَمِيعًا عَنْ مَرْوَانَ الْفَزَارِيِّ، - قَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، سَعْدِ بْنِ طَارِقٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِنَّ حَوْضِي أَبْعَدُ مِنْ أَيْلَةَ مِنْ عَدَنٍ لَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ الثَّلْجِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ بِاللَّبَنِ وَلآنِيَتُهُ أَكْثَرُ مِنْ عَدَدِ النُّجُومِ وَإِنِّي لأَصُدُّ النَّاسَ عَنْهُ كَمَا يَصُدُّ الرَّجُلُ إِبِلَ النَّاسِ عَنْ حَوْضِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَعْرِفُنَا يَوْمَئِذٍ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ لَكُمْ سِيمَا لَيْسَتْ لأَحَدٍ مِنَ الأُمَمِ تَرِدُونَ عَلَىَّ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ্(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমার হাওযে কাওসার হবে ‘আদান (ইয়ামানের বন্দর নগরী) থেকে আইলা (আরবের উত্তরাঞ্চলীয় শহর)-এর যত দূরত্ব তার থেকেও বেশি দীর্ঘ। আর তা হবে তুষারের থেকেও সাদা এবং দুধ মধু থেকে মিষ্টি। আর তার পাত্রের সংখ্যা হবে তারকারাজির চেয়েও অধিক। আমি কিছু সংখ্যক লোককে তা থেকে ফিরিয়ে দিতে থাকবো যেমনিভাবে লোকে তার হাওয থেকে অন্যের উট ফিরিয়ে দেয়। সহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ! সেদিন কি আপনি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তোমাদের এমন চিহ্ন হবে যা অন্য কোন উম্মাতের হবে না। ওযূর বিনিময়ে তোমাদের মুখমন্ডল জ্যোতির্ময় ও হাত-পা দীপ্তিমান অবস্থায় তোমরা আমার কাছে আসবে”। (ই.ফা. ৪৭২, ই.সে. ৪৮৮)
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْكَوْثَرُ نَهْرٌ فِي الْجَنَّةِ حَافَّتَاهُ مِنْ ذَهَبٍ وَمَجْرَاهُ عَلَى الدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ تُرْبَتُهُ أَطْيَبُ مِنَ الْمِسْكِ وَمَاؤُهُ أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ وَأَبْيَضُ مِنَ الثَّلْجِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জান্নাতের একটি প্রস্রবণের নাম কাওসার, যার প্রত্যেক তীর সোনার এবং যার পানি মুক্তা ও ইয়াকূতের উপর দিয়ে প্রবাহমান। এর যমীন কস্তুরীর তুলনায় অধিক সুগন্ধসম্পন্ন, এর পানি মধুর তুলনায় অধিক মিষ্ট এবং তুষারের তুলনায় অধিক সাদা।
সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৪৩৩৪)
ফুটনোটঃ
আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৩৬১
এই হাদীসেও হাওযে কাওসার তথা এর পানিকে রাসূল বলেছেন তুষার থেকে শুভ্র এবং সাদা। তিনি যদি "তুষার" সম্পর্কে অজ্ঞ হতেন, তাহলে বড়জোর বলতেন "এটা হবে দুধের মতো সাদা "।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৬৯
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذْ أَقْبَلَ فِتْيَةٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ فَلَمَّا رَآهُمُ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ اغْرَوْرَقَتْ عَيْنَاهُ وَتَغَيَّرَ لَوْنُهُ قَالَ فَقُلْتُ مَا نَزَالُ نَرَى فِي وَجْهِكَ شَيْئًا نَكْرَهُهُ ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّا أَهْلُ بَيْتٍ اخْتَارَ اللَّهُ لَنَا الآخِرَةَ عَلَى الدُّنْيَا وَإِنَّ أَهْلَ بَيْتِي سَيَلْقَوْنَ بَعْدِي بَلاَءً وَتَشْرِيدًا وَتَطْرِيدًا حَتَّى يَأْتِيَ قَوْمٌ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَعَهُمْ رَايَاتٌ سُودٌ فَيَسْأَلُونَ الْخَيْرَ فَلاَ يُعْطَوْنَهُ فَيُقَاتِلُونَ فَيُنْصَرُونَ فَيُعْطَوْنَ مَا سَأَلُوا فَلاَ يَقْبَلُونَهُ حَتَّى يَدْفَعُوهَا إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي فَيَمْلَؤُهَا قِسْطًا كَمَا مَلَؤُوهَا جَوْرًا فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَلْيَأْتِهِمْ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ ‏"‏ ‏.‏
আবদুল্লাহ(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, একদা আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে বসা ছিলাম, তখন হাশিম বংশীয় কতক যুবক তাঁর নিকট উপস্থিত হলো। তাদের দেখতে পেয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হলো এবং তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। রাবী বলেন, আমি বললাম, আমরা সবসময় আপনার চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ লক্ষ্য করি। তিনি বলেনঃ আমাদের আহলে বাইতের জন্য আল্লাহ তা’আলা পার্থিব জীবনে পরিবর্তে আখিরাতের জীবনকে পছন্দ করেছেন। আমার আহলে বাইত আমার পরে অচিরেই কঠিন বিপদে লিপ্ত হবে, কষ্ট-কাঠিন্যের শিকার হবে এবং দেশান্তরিত হবে। প্রাচ্যদেশ থেকে কালো পতাকাধারী কতক লোক তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসবে। তারা কল্যাণ(গুপ্তধন) কামনা করবে, কিন্তু তা তাদের দেওয়া হবে না। তারা লড়াই করবে এবং বিজয়ী হবে। শেষে তাদেরকে তা দেয়া হবে, যা তারা চেয়েছিল। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করবে না। অবশেষে আমার আহলে বাইতের একজন লোকের নিকট তা সোপর্দ করা হবে। সে পৃ্থিবীকে ইনসাফে পরিপূর্ণ করবে, যেমনিভাবে লোকেরা একে যুলুমে পূর্ণ করেছিল। তোমাদের মধ্যে যারা সে যুগ পাবে, তারা যেন বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাদের নিকট চলে যায়। [৩৪১৪]
ফুটনোটঃ
[৩৪১৪] [ হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। রাওদুন নাদীর ৬৪৭।
এই হাদীসে বরফের উপর হামাগুড়ি দেওয়া বলতে তুষারের দেশগুলি পাড়ি দিয়ে অথবা প্রচুর তুষারবৃষ্টি অতিক্রম করতে হলেও তাদের সাথে যোগদান করার ইঙ্গিত প্রদান করে এর গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে। কেননা হাদীসের সর্বশেষ শব্দটি হলো ثلج৷
সর্বশেষে তার আরেকটি দাবি খন্ডন করে বলতে চাই, তিনি বলেছেন আরবরা নাকি তখন শীতপ্রধান দেশ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল, অথচ কুরআনে সূরা কুরাইশে বর্ণিত হয়েছে -
106:2
اٖلٰفِہِمۡ رِحۡلَۃَ الشِّتَآءِ وَ الصَّیۡفِ ۚ﴿۲﴾
শীত ও গ্রীষ্মের সফরে তারা অভ্যস্ত হওয়ায়।
কুরাইশরা যদি শীতের সফরে অভ্যস্থ হয়, তবে তো শীতপ্রধান দেশ ও তুষারপাত সম্পর্কে অবশ্যই অবগত ছিলেন৷
আরো মজার ব্যাপার হলো এই মূর্খ নাস্তিক নারী জানেই না
সৌদিআরবেও যে তুষারপাত হয়৷ সে দাবি করলো সৌদি আরবে নাকি তুষারপাত হয় না।
আপনারা Snowfall in Saudia Arabia লিখে গুগল এবং ইউটিউবে সার্চ করলে বহু ভিডিও এবং ডকুমেন্টারি পাবেন।
একটি লিংক এখানে দেওয়া হলো।
© মোঃ ইউনুস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ