উত্তরঃ
মাঝে মধ্যে আমাদের পেইজে এমন সব প্রশ্ন আসে যে, সত্যিই অবাক হয়ে যাই। আর ভাবি নাস্তিকরা এগুলো নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে! ইসলাম সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা সত্যিই বাধিয়ে রাখার মতো।
ধরুন, আপনি একটি রোজনামচা লিখেছেন - গতকাল আমার স্কুলে এক কান্ড হয়েছে। আমার বন্ধু স্যারকে পড়া শোনাতে গিয়ে কমলার জায়গায় কলা বলে ফেলেছে। তারপর সবাই কি যে হাসি...
এখন যদি কেউ 'আপনার' ভুল বের করতে গিয়ে উক্ত রোজনামচার পূর্বাপর না দেখে শুধু এই অংশটা 'কমলা বলতে গিয়ে কলা বলে ফেলেছে' কোট করে বলে, তুমি তো স্কুলে কমলা বলতে গিয়ে কলা বলে ফেলেছ। তোমার খাতাতেই তুমি লিখেছো।
এবার আপনিই বলুন, তাকে কয় নাম্বার গাধার সার্টিফিকেট দিবেন। সে আপনার রোজনামচার 'কমলা বলতে গিয়ে কলা বলে ফেলেছে' এতটুকুই হজম করতে পেরেছে। বাকি আগ-পিছ দেখে 'কথাটা আসলে কে বলেছে' সেটা বের করার সৌভাগ্য তার হয়নি।
কোরআনের ব্যাপারে নাস্তিকদের অধিকাংশ ভুলের দাবিগুলোই এমন। (বড় বড় নাস্তিকদের বইতেও আমি একাধিক দেখাতে পারবো) পূর্বাপর না দেখে না ভেবে 'পুঁটি মাছ পাই না একটা যদি পাই অমনি ধরে গাপুস-গুপুস খাই' টাইপের আক্রমণ করে বসে। এতে তাদের অজ্ঞতা বই আর কিছুই প্রকাশ পায় না।
প্রশ্নটা ছিল, কোরআন পড়তে হলে সবাইকে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' অর্থাৎ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করতে হয়। কিন্তু কোরআনের মধ্যেই এক আয়াতে আল্লাহ নিজেই কেন 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' বললেন।
বাহ! কী চমৎকার ভুল ধরার নমুনা। সত্যিই বাধিয়ে রাখার মতো। সাধারণ মানুষের মধ্যে কে বলতে পারবে? যে, এটা আসলে আপত্তির লায়েকই না। বরং তারই অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
এই প্রশ্ন উত্থাপনকারী (যারা মূলত এটাকে ভুল সাব্যস্ত করেছে) গাধাও পূর্বের গাধার মতো
বাক্যের পূর্বাপর না দেখেই এটা করেছে।
পুরো আয়াতটি হলো আল্লাহ সুলায়মান (আঃ) নবীর ইতিহাস টেনে বলেছেন যে, "সেটা ছিল সুলায়মানের পক্ষ থেকে প্রেরিত চিঠি। আর তিনি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' দিয়ে (চিঠিটি) শুরু করেছিলেন।" আন নামল- ৩০।
নাস্তিকদের এতটুকু বুঝারও ক্ষমতা নেই যে, কোনটা কে বলছে? আর কী'বা বলা হচ্ছে ?
তারা কী করে জানবে? তাদের তো সেই সাধ্যই নেই যে, আরবিতে কোরআন পড়ে বুঝবে। তবে
বাংলাতেও যে অনুবাদটা পড়ার ক্ষমতা নেই, সেটা জানা ছিল না। জানলে অন্তত নিজের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারার মতো বোকামি করতো না।

0 মন্তব্যসমূহ