প্রশ্নঃ আল্লাহই যদি হেদায়েত দান করেন এবং আল্লাহই পথভ্রষ্ট করেন। এতে মানুষের তো কোন হাত নেই। তাহলে মানুষ কেন শাস্তি ভোগ করবেন - রাহমাতুল্লাহ।


 

উত্তরঃ
১/যাকে আল্লাহ পথ দেখাবেন, সেই পথপ্রাপ্ত হবে। আর যাকে তিনি পথ ভ্রষ্ট করবেন, সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।(কোরআন ৭:১৭৮)
২/আল্লাহ যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না। (কোরআন ১৮:১৭)
অর্থাৎ আল্লাহই তো হেদায়েতের মালিক, গোমরাহ করার মালিক। যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন আর যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। এখানে আমাদের তো কোন হাত নেই।
হ্যা অবশ্যই, এই আয়াতগুলোর উদ্দেশ্য এটা বুঝানো যে, হেদায়েতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি ছাড়া কেউ হেদায়েত দিতে পারেন না। এমনকি সয়ং রসূল ও না। তবে এতে সংশয় ছড়ানোর কিছু নেই। কারণ সৃষ্ট সব কিছুই স্রষ্টার অধিনে থাকবে। এটাই স্বাভাবিক।
এখন আমি আপনাকে একটি প্রশ্ন করছি, আপনার টাকার প্রয়োজন। আর আপনি এও জানেন যে, আপনার বাবার কাছে টাকা আছে।
এখন আপনার কী কর্তব্য? নিশ্চয়ই বাবার কাছে টাকা চাওয়া। নাকি নিজে না চেয়ে 'বাবা দেয় না কেন' বলে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাবেন।
অতএব আপনি জানেন, আপনাকে জানানো হয়েছে হেদায়েতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহর কাছে হেদায়েত আছে। এখন যদি আপনি হেদায়েত না চেয়ে আল্লাহকে দোষারোপ করেন, তাহলে এটা সম্পূর্ণ আপনার বোকামি। কেননা যার হেদায়েতের প্রয়োজন তাকে আল্লাহ হেদায়েতের দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন -
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيم
(আল ফাতিহা - ৬)
(হে আল্লাহ) আমাদের সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শণ করো।
এবং আল্লাহ অনেক জায়গায় বান্দাকে চাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন -
তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। (আল মু'মিন-৬০)
দ্বিতীয়ত, আল্লাহ কারো ঈমান নষ্ট করেন না।
{ আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।} (আল বাকারা- ১৪৩)
"আর আল্লাহ গোমরা করেন তাদেরকে যারা আল্লাহর নিদর্শন পাওয়ার পরও তা গোপন করে। অর্থাৎ আল্লাহর অস্তিত্বকে জেনে বুঝে অস্বীকার করে।" (আল বাকারা ১৫৯)
সুতরাং আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণেই তাদেরকে গোমরাহ করেন। এমনি এমনি নয়।
আর এটাই বাস্তবতা, কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগানো যায়। ঘুমের ভানকারী ব্যক্তিকে নয়।
আর আল্লাহ এও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে, সত্য (হেদায়েত) বর্জন করলে তার ভাগ্যে মিথ্যা(গোমরাহি) ছাড়া আর কিছুই থাকে না।
'অপশন দুটি' একটা রিজেক্ট করার পর অটোমেটিকলি অপরটা চুজিং হয়ে যায়। এখন কেউ যদি সত্যকে রিজেক্ট করার পর হায়হুতাশ করে বলে মিথ্যা কেন আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হলো? তাহলে এটা হবে চরম বোকামি।
{ অতএব, এ আল্লাহই তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা। আর সত্যের পরে গোমরাহী ছাড়া আর কী বা রয়েছে ? সুতরাং কোথায় তোমরা ঘুরপাক খাচ্ছো? }( ইউনুস -৩২)
লেখক - রবিউল ইসলাম, এক্টিভ নাস্তিকতার মূলোৎপাটন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ